দেশের উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন একটি কর্মসূচি চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ নামের এই উদ্যোগের প্রথম পর্বে আটটি জেলার ৬৪টি উপজেলা থেকে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে বাছাই করে অর্থায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়। কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ। প্রতিটি উপজেলা থেকে বাছাই করা হবে ১০ জন করে উদ্যোক্তা। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে দেশের বাকি উপজেলাগুলোতেও এটি সম্প্রসারিত হবে, এবং লক্ষ্য রাখা হয়েছে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে সহায়তা দেওয়ার।
এটি কোনো প্রতিযোগিতামূলক আবেদন-প্রক্রিয়া নয়। বরং তফসিলি ব্যাংকগুলো নিজেদের বিদ্যমান শাখা নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের নিজেরাই খুঁজে বের করবে। এরপর তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও প্রকৃত অর্থের প্রয়োজন যাচাই করে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে।
নির্বাচিত প্রতিটি উদ্যোক্তা প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি প্যাকেজ পেতে পারবেন, যার অর্ধেক থাকবে ব্যাংকঋণ হিসেবে আর বাকি অর্ধেক অনুদান হিসেবে। ঋণের সুদ বা মুনাফার হার সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, আর এর বিপরীতে কোনো জামানত বা সম্পত্তি বন্ধক রাখতে হবে না।
তবে শর্তও আছে—নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ না করলে অনুদানের টাকাও সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হয়ে যাবে, আর ঋণ হিসাবটি প্রচলিত নিয়মে শ্রেণিকৃত হবে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তাকে ঋণখেলাপি হিসেবে গণ্য করা হবে এবং ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়ার সুযোগও হারাবেন তিনি।
আবেদনের শেষ দিনে বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা হতে হবে—এই দুটি শর্ত পূরণ করা প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকেরাই আবেদনের যোগ্য বিবেচিত হবেন। আগে থেকে ব্যবসা চালানোর অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়; বাস্তবসম্মত একটি ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই চলবে। কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা কিংবা প্রযুক্তিনির্ভর—যেকোনো বৈধ খাতের উদ্যোগই সমান গুরুত্ব পাবে। আবেদনের জন্য কোনো ফি লাগবে না, শুধু সংশ্লিষ্ট উপজেলার তফসিলি ব্যাংক শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলেই হবে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা সংবলিত সার্কুলার আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর জারি হবে, আর তার পরের এক মাস আবেদন জমা দেওয়ার জন্য খোলা থাকবে।
প্রথম ধাপে যে আটটি জেলায় কর্মসূচি শুরু হচ্ছে, সেগুলো হলো—মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা। এসব জেলার ৬৪ উপজেলা থেকে মোট ৬৪০ জন উদ্যোক্তা প্রথম দফায় নির্বাচিত হবেন।
কর্মসূচিটি কেবল অর্থায়নেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্বাচিত উদ্যোক্তারা পাবেন উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরদের নিয়মিত পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন ও পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সাধারণত আরও তিন থেকে পাঁচজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন। এই হিসাবে ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং দেশের সার্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

