দেশের তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বাকি মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড—এই তিন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে থাকা কর্মকর্তাদের বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন উপসচিব সই করেছেন।
যাঁদের নিয়োগ বাতিল হয়েছে, তাঁরা হলেন—অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও, বেসিক ব্যাংকের এমডি ও সিইও এবং বিডিবিএলের এমডি ও সিইও। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুসারে তাঁদের নিয়োগের অবশিষ্ট সময়কাল বাতিলে সরকার সম্মতি দিয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক কোম্পানি আইন ও সংশ্লিষ্ট চুক্তির শর্ত মেনে পরবর্তী বিধিগত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তার আগে ওই বছরের ২১ অক্টোবর তাঁকে তিন বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। চুক্তির পুরো মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এবার তাঁর নিয়োগ বাতিল হলো। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ১৯৮৮ সালে অগ্রণী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে যোগ দিয়েছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শাখা ব্যবস্থাপক, আঞ্চলিক প্রধান, মহাব্যবস্থাপক ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদেও রদবদল আনা হয়েছিল, যেখানে কয়েকজন পরিচালককে সরিয়ে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়।
একই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেসিক ব্যাংকের এমডি ও সিইওর নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদও বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে বিডিবিএলের এমডি ও সিইও, যিনি ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর দায়িত্বে এসেছিলেন, তাঁর নিয়োগও বাতিল হয়েছে। তিনি ১৯৮৮ সালে জনতা ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরবর্তীতে জনতা ব্যাংক ও কর্মসংস্থান ব্যাংকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিন ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়োগ এভাবে বাতিল হওয়ায় এখন নতুন এমডি ও সিইও নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পথ খুলল বলে মনে করা হচ্ছে।

