পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত নতুন ব্যাংক থেকে টানা দ্বিতীয় দিনেও বড় অঙ্কের অর্থ তুলে নিয়েছেন গ্রাহকেরা। মঙ্গলবার একদিনেই প্রায় আট হাজার আমানতকারী তুলে নিয়েছেন তিনশত সাতাশ কোটি টাকা, যার ফলে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে মোট উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচশত একাশি কোটি টাকায়। এই সময়ে মোট তেরো হাজারের বেশি গ্রাহক তাঁদের জমাকৃত অর্থ ফেরত নিয়েছেন।
এর আগে সোমবার, অর্থাৎ প্রথম দিনে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি গ্রাহক আড়াইশ চুয়ান্ন কোটি টাকা উত্তোলন করেছিলেন। দুই দিনের এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয়, দীর্ঘদিন আটকে থাকা অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পেয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উত্তোলনের প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এর আগে ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে অর্থ ফেরত নিতে ইচ্ছুক গ্রাহকদের কাছ থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহের কাজ চলে। ওই সময়ের মধ্যে প্রায় চুয়াত্তর হাজার আমানতকারী প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যা থেকে বোঝা যায় গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের চাহিদা কতটা ব্যাপক।
শুধু আমানত ফেরতই নয়, নতুন ব্যাংকটি অনলাইনে অর্থ স্থানান্তরের সুবিধাও চালু করেছে, যার ফলে দীর্ঘদিন স্থবির থাকা এর সার্বিক কার্যক্রমে ধীরে ধীরে গতি ফিরতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, সংকটে পড়া পাঁচটি পৃথক ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে এই নতুন ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যে উদ্যোগ নিয়েছিল দেশের সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। একীভূতকরণ সম্পন্ন হলেও এখনো পর্যন্ত পাঁচটি ব্যাংকের শাখাগুলো আলাদাভাবেই পরিচালিত হচ্ছে, এবং সব মিলিয়ে সারাদেশে এসব শাখার সংখ্যা সাতশত একষট্টিটি।
আমানতকারীদের অর্থ নিরবচ্ছিন্নভাবে ফেরত দেওয়া নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নতুন প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল বরাদ্দ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক যেন অর্থ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে না যান, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ব্যাংকের সব শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা করে সেগুলোর মালিকানা সরকারের হাতে চলে গেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর আর্থিক সংকটে থাকা এই পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বছরের পর বছর ধরে তারল্য সংকট ও আস্থার অভাবে ভুগতে থাকা এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য এই উত্তোলন প্রক্রিয়া একটি বড় স্বস্তির বিষয়, তবে ধারাবাহিক এই বড় অঙ্কের উত্তোলন ব্যাংকটির তারল্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাকেও আগামী দিনগুলোতে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে।

