সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে জমা রাখা অর্থ ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়া ক্রমেই গতি পাচ্ছে। টানা তিন দিনের ব্যবধানে ব্যাংকটি থেকে ছাব্বিশ হাজারের বেশি গ্রাহক এক হাজার চল্লিশ কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছেন, যা আমানতকারীদের মধ্যে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।
বুধবার, নয় সেপ্টেম্বর পালিত হয় এই কর্মসূচির তৃতীয় দিন। এদিন দশ হাজার ছয়শ সাতানব্বই জন গ্রাহক ব্যাংক থেকে তাদের পাওনা তুলে নেন, যার পরিমাণ তিনশ একাশি কোটি টাকা। এর আগের দুই দিন মিলিয়ে বেরিয়ে যাওয়া টাকার অঙ্কের সঙ্গে এই দিনের হিসাব যোগ হয়ে সামগ্রিক উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার চল্লিশ কোটি টাকায়, যা তুলে নিয়েছেন মোট ছাব্বিশ হাজার ছাপ্পান্ন জন গ্রাহক।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত তিন সেপ্টেম্বর একুশ হাজার ছিয়াশি জন গ্রাহক নয়শ তেষট্টি কোটি টাকা তোলার জন্য আবেদন জমা দিয়েছিলেন। তার তুলনায় বুধবার পরিশোধিত অর্থের অঙ্ক অনেকটাই কম, যা বোঝায় যে আবেদনের সংখ্যা ও পরিশোধের গতির মধ্যে এখনো একটা ফারাক রয়ে গেছে।
এর আগে গত সাত সেপ্টেম্বর প্রথম সেপ্টেম্বর আবেদন করা গ্রাহকদের মধ্যে আট হাজার একশ পঁচিশ জন গ্রাহক তিনশ ঊনিশ কোটি টাকা তুলে নিয়েছিলেন। সেদিন ব্যাংকে নগদে প্রবেশ করেছিল তিরানব্বই কোটি টাকা এবং আন্তঃব্যাংক লেনদেনের বিভিন্ন মাধ্যম—যেমন তাৎক্ষণিক স্থানান্তর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক ও চেক ক্লিয়ারিং—এর মাধ্যমে এসেছিল আরও একান্ন কোটি টাকা। সবমিলিয়ে সেদিন ব্যাংকে প্রবাহিত হয়েছিল একশ একচল্লিশ কোটি টাকা, এবং লেনদেন সম্পন্ন হয়েছিল ষোলো হাজার ছয়শ বার।
তার পরের দিন, আট সেপ্টেম্বর, দুই সেপ্টেম্বর আবেদন করা গ্রাহকদের মধ্য থেকে সাত হাজার দুইশ চৌত্রিশ জন গ্রাহক তুলে নেন তিনশ চল্লিশ কোটি টাকা। ওই দিনও ব্যাংকে অর্থের প্রবাহ অব্যাহত ছিল—নগদে এসেছিল নব্বই কোটি টাকা, আর বিভিন্ন স্থানান্তর মাধ্যমে যুক্ত হয়েছিল আরও একশ পাঁচ কোটি টাকা। ফলে দিনভিত্তিক মোট প্রবাহ দাঁড়ায় একশ পঁচানব্বই কোটি টাকায়, এবং সেদিন লেনদেন হয় ষোলো হাজার পঞ্চাশটি।
সার্বিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এক থেকে তিন সেপ্টেম্বরের মধ্যে মোট আটান্ন হাজার সাতশ পঁয়তাল্লিশ জন গ্রাহক তিন হাজার তিনশ চার কোটি টাকা তোলার আবেদন করেছিলেন। তার বিপরীতে সাত থেকে নয় সেপ্টেম্বর—এই তিন দিনে ব্যাংক পরিশোধ করেছে এক হাজার চল্লিশ কোটি টাকা, যা মোট আবেদনকৃত অর্থের প্রায় সাড়ে একত্রিশ শতাংশ। এই হিসাব থেকে স্পষ্ট হয়, ব্যাংকটি ধাপে ধাপে হলেও তার দায় মেটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এখনো যথেষ্ট ব্যবধান বিদ্যমান।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, আমানত ফেরতের এই কর্মসূচি চলার পাশাপাশি ব্যাংকে নতুন অর্থপ্রবাহও থেমে নেই। সাধারণ গ্রাহকদের ব্যক্তিগত হিসাবে দৈনন্দিন লেনদেন স্বাভাবিক নিয়মে চলছে বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে, আবেদনের ক্রমানুসারে অর্থ পরিশোধের এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহক তাদের জমানো অর্থ হাতে পাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নগদ প্রবাহ ও পরিশোধের এই ধারা যদি স্থিতিশীল থাকে, তবে ধীরে ধীরে ব্যাংকটির প্রতি আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হতে পারে। তবে আবেদনকৃত অর্থের তুলনায় প্রতিদিনের পরিশোধের অঙ্ক এখনো সীমিত হওয়ায়, সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

