সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতের মুনাফা কমিয়ে দেওয়ার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যার ফলে নির্দিষ্ট হারে মুনাফা কেটে না নিয়ে বরং প্রকৃত কার্যকর মুনাফার ভিত্তিতে আমানত হিসাব পুনর্নির্ধারণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দুই হাজার চব্বিশ সালের জানুয়ারি থেকে দুই হাজার পঁচিশ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিক পর্যন্ত সময়ে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক নয় এমন মেয়াদি আমানত এবং কিস্তিভিত্তিক আমানতের ক্ষেত্রে আগে নির্ধারিত চার শতাংশ হারে মুনাফা কর্তনের নিয়ম আর প্রযোজ্য হবে না। পরিবর্তে ওই সময়কালে ব্যাংকের প্রকৃত কার্যকর মুনাফার হার হিসাব করে প্রতিটি আমানত হিসাব নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে দুই হাজার পঁচিশ সালের ডিসেম্বরের শেষ তিন দিনের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্যও একই পদ্ধতিতে পুনর্নির্ধারিত মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার, প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং মুনাফা সমন্বয় সংক্রান্ত বাস্তবিক জটিলতাগুলো বিবেচনায় নিয়েই আগের মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ব্যাংকিং খাতের একটি সংকটাপন্ন প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনাস্থা দূর করতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নমনীয় অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত সপ্তাহের শুরু থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা নিজেদের জমাকৃত অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই সুযোগ চালু হওয়ার পর প্রথম তিন দিনেই প্রায় সাতাশ হাজার গ্রাহক মিলিয়ে মোট এক হাজার চল্লিশ কোটি টাকার বেশি অর্থ উত্তোলন করেছেন, যা থেকে বোঝা যায় গ্রাহকদের মধ্যে জমাকৃত অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে কতটা তীব্র আগ্রহ ছিল।
এই সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতের একটি সংকটাপন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আমানতের মুনাফা কর্তনের মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছিল, যা পরবর্তীতে পুরো ব্যাংকিং খাতের প্রতি আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত করতে পারত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা তাই স্বল্পমেয়াদে গ্রাহক আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হলেও, দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা এবং কার্যকর মুনাফার হিসাব কতটা বাস্তবসম্মতভাবে নির্ধারিত হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে সামগ্রিক সমাধানের স্থায়িত্ব। একই সঙ্গে অন্যান্য দুর্বল ব্যাংকের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে অনুরূপ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গ্রাহক স্বার্থ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

