রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে রোববার সকালে একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন দাবিতে অবস্থান নিয়েছে দুটি পক্ষ, যা ঘিরে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। একদিকে ব্যাংকের গ্রাহকদের একটি সংগঠন, অন্যদিকে বিভিন্ন সময়ে চাকরিচ্যুত হওয়া ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা—দুই পক্ষই নিজ নিজ দাবি নিয়ে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেন সকাল দশটা থেকে।
ব্যাংকের সচেতন গ্রাহকদের একটি ফোরাম বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে দাবি জানায়, প্রতিষ্ঠানটিকে এস আলম গ্রুপের কোনো প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে হবে এবং সেখানে সুশাসন নিশ্চিত করে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। বিভিন্ন শাখার ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে স্লোগান দেন এবং বক্তব্য রাখেন। এর আগেও ব্যাংক খাতের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষার দাবিতে এই সংগঠনটি একাধিকবার কর্মসূচি পালন করেছে।
একই সময়ে অন্যপাশে অবস্থান নেন বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, এস আলম গ্রুপের সময়কালে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা ও সনদ যাচাই প্রক্রিয়ার পর তাদের অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন অবস্থায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের মূল দাবি হলো, কোনো শর্ত ছাড়াই বকেয়া বেতন-ভাতাসহ চাকরিতে পুনর্বহাল করা।
দুই পক্ষের ভিন্নমুখী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতে মতিঝিল এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে সাজোয়া যানও।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রশাসনিক পরিবর্তন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি ব্যাংক খাতে একটি স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি, অন্যদিকে চাকরিহারা কর্মীদের মানবিক সংকট—দুটি বিষয়ই একসঙ্গে সামনে চলে আসায় বিষয়টি সমাধানে কর্তৃপক্ষের সুচিন্তিত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

