আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে একসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মৌখিক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বেসরকারি ব্যাংকটির তখনকার পর্ষদ ভেঙে দিয়ে পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক বসিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে থেকে এবার চারজনই সরে দাঁড়ালেন। এর আগে আওয়ামী লীগ আমলে এস আলম গ্রুপ এবং কেডিএস গ্রুপ—এই দুটি পক্ষ ব্যাংক পরিচালনায় জড়িত ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ব্যাংকটিতে কেডিএস গ্রুপের প্রভাব ক্রমেই বাড়তে থাকে। স্বতন্ত্র পরিচালকদের এই পদত্যাগের পর কার্যত পুরো পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ এখন কেডিএস গ্রুপের হাতে চলে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পদত্যাগ করা চারজন হলেন একজন সাবেক ব্যাংকার, একজন হিসাববিদ এবং দুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁদের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরাসরি তাঁদের পদ ছাড়তে বলা হয়েছিল, এবং তার পরই তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ব্যাংকের পর্ষদে থাকা স্বতন্ত্র পরিচালকদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ আসে। সে অনুযায়ী পাঁচজনের মধ্যে একজনকে রেখে বাকি চারজনকে পদত্যাগ করানো হয়।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপের প্রভাবে চলত। তখন ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে ছিলেন আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের ভাই, এবং নির্বাহী পদে ছিলেন কেডিএস গ্রুপের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। এস আলম ও কেডিএস—দুই গ্রুপের মালিকপক্ষই চট্টগ্রামের পটিয়া অঞ্চলের। ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির তখনকার পর্ষদ বাতিল করে দায়িত্ব দেয় স্বতন্ত্র পরিচালকদের হাতে। তাঁদের সময়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংকে ব্যাপক নিরীক্ষা চালানো হয়, যেখানে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ উঠে আসে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর ব্যাংকের মালিকানার সঙ্গে জড়িত দুটি পক্ষ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে কেডিএস গ্রুপ পর্ষদে তাদের প্রভাব ফিরে পায়, আর অন্য একটি পক্ষ শেয়ারের অনুপাতে পরিচালক পদ দাবি করে। পরে গত জুলাই মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকের ১৪ জন পুরোনো শেয়ারহোল্ডারকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ফেরেন একজন সাবেক চেয়ারম্যান, এবং নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

