খেলাপি ঋণ আদায়ে এবার কঠোর অবস্থানে গেল রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। ২৯ জন খেলাপি গ্রাহককে ডেকে নিয়ে সরাসরি মুখোমুখি বৈঠক করেছে ব্যাংকটি, যেখানে প্রতিটি গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, বকেয়া অর্থের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট মামলা নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি গ্রাহককে ঋণ শোধের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর দিলকুশায় জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের তিনজন পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বৈঠকে খেলাপি গ্রাহকদের বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় ঋণ পুনঃতফসিলসহ পরিশোধের বিভিন্ন সুযোগের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে সতর্ক করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে চলমান আইনি প্রক্রিয়া ও মামলায় কোনো ধরনের ছাড় মিলবে না।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, এই ২৯ জন গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের অর্থ পরিশোধের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে সেই সময়সীমার মধ্যে টাকা ফেরত না এলে মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আদায় করা সম্ভব হবে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যেসব গ্রাহক ঋণ পরিশোধে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, তাঁদের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা ও পরিশোধ পরিকল্পনা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাস্তবসম্মত পরিশোধের সম্ভাবনা থাকলে নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে হবে বলে জানানো হয়েছে।
ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মুখোমুখি বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃতপক্ষে সামর্থ্যহীন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ না করা গ্রাহকদের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা। যাঁরা পরিশোধের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়িত হয় কি না, সেদিকেই এখন মূল নজর দেওয়া হচ্ছে।
এ ধরনের বৈঠকের একটি উদাহরণ হিসেবে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে বিভিন্ন সময়ে সুবিধা নিয়ে ও মেয়াদ বাড়িয়ে চলমান থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণও এবার আলোচনায় এসেছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ শোধের অঙ্গীকার করেছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বারবার সময় বৃদ্ধির পুরোনো ধারা থেকে সরে এসে এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকৃত অর্থে ঋণ আদায় নিশ্চিত করাই ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ ফেরত না এলে আইনি প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে ব্যাংকিং খাত-সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক নীতিমালায় এককালীন ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সুদ মওকুফের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। তবে এই সুবিধা প্রয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহকের খেলাপি হওয়ার প্রকৃত কারণ ও তাঁর সার্বিক আচরণ বিবেচনায় নেওয়া জরুরি বলে মত দিয়েছেন তাঁরা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও কৃষিঋণের ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে সমস্যাগ্রস্ত গ্রাহকদের সুযোগ দিয়ে মূল ঋণ আদায়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

