দেশে বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এই সেবা চালু হয়েছে। এ ধারা বজায় থাকলে আগামী এক বছরের মধ্যে সারা দেশে ক্যাশলেস লেনদেন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে কেনাকাটা করেন গভর্নর। এ সময় তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এই মাধ্যমে লেনদেনে তাঁদের উৎসাহিত করেন।
গভর্নর বলেন, নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে জোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে সর্বজনীন ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যম বাংলা কিউআর দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিন গুণ। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে এই মাধ্যমে। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যেই এটি লেনদেনের একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠছে।
মতিঝিলে প্রচারণার সময় গভর্নর বলেন, ডিজিটাল লেনদেনকে জনপ্রিয় করতে শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা চালু করাই যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তাই মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। তাঁর মতে, এতে নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি দ্রুত বাড়বে।
বাংলা কিউআর হলো একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহকেরা একটি কোড স্ক্যান করেই দোকানে মূল্য পরিশোধ করতে পারেন। ফলে ব্যবসায়ীদের আলাদা আলাদা কোড রাখার প্রয়োজন কমে আসে, আর ক্রেতার জন্যও লেনদেন সহজ হয়।
তবে ক্যাশলেস অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই সেবা নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে কি না, ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের সুবিধা সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না এবং লেনদেনের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করা যাচ্ছে কি না, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও ছোট ব্যবসায়ীদের কাছে সেবাটি কতটা সহজে পৌঁছায়, তার ওপরই নির্ভর করবে গভর্নরের এক বছরের লক্ষ্য বাস্তবে কতটা পূরণ হবে।
সব মিলিয়ে বাংলা কিউআরের লেনদেনে সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠপর্যায়ের প্রচারণা কতটা কার্যকর হয় এবং নগদ লেনদেনে অভ্যস্ত সাধারণ মানুষকে কতটা দ্রুত ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনা যায়।

