বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে গতি ফিরেছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডলার কেনাবেচার পরিমাণ এক দিনে ২০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বাজারে ডলারের সরবরাহ তুলনামূলক বেশি থাকলেও চাহিদা সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে কিছু ব্যাংকের হাতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ডলার জমা হচ্ছে। অন্যদিকে, যেসব ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন রয়েছে, তারা আন্তঃব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য দিনে ব্যাংকগুলোর মধ্যে সরাসরি ডলার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৫৫ মিলিয়ন ডলার। এর পাশাপাশি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে আরও ৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ২২ পয়সার মধ্যে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ৭ তারিখে আন্তঃব্যাংক বাজারে ১০১ মিলিয়ন ডলারের লেনদেন হয়েছিল। এর আগের দিন ৬ অক্টোবর লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮২ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বাজারে ডলার কেনাবেচার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আন্তঃব্যাংক বাজারে কেন বাড়ছে ডলারের লেনদেন
আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজার হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে ডলারসহ বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করে। কোনো ব্যাংকের কাছে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ডলার থাকলে সেটি অন্য ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে পারে। আবার কোনো ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হলে অন্য ব্যাংক থেকে তা কিনে নিতে পারে। সাধারণ গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠান সরাসরি এই বাজারে অংশ নিতে পারে না।
বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজারে ডলারের তুলনামূলক কম চাহিদা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে ডলারের জোগান তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে, ডলারের চাহিদা রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহের তুলনায় কম থাকায় কিছু ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান নির্ধারিত সীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অতিরিক্ত ডলার অন্য ব্যাংকের কাছে বিক্রি করার প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। যেসব ব্যাংকের ডলারের চাহিদা রয়েছে, তারা এই সুযোগে আন্তঃব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে। এর ফলে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে এবং ব্যাংকগুলোর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা বণ্টনের কার্যক্রম আরও সক্রিয় হচ্ছে।
ব্যাংকের ডলার ধারণের সীমা কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই পরিস্থিতি বুঝতে ব্যাংকের নিট বৈদেশিক মুদ্রা অবস্থান বা এনওপি সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। কোনো ব্যাংকের মোট বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ ও দায়ের মধ্যকার নিট অবস্থানকে সাধারণভাবে এই সূচকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। ব্যাংক কতটা বৈদেশিক মুদ্রা ধারণ করতে পারবে, তার ওপর নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধ রয়েছে।
যখন কোনো ব্যাংকের নিট বৈদেশিক মুদ্রা অবস্থান নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তখন অতিরিক্ত ডলার ধরে রাখার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ওই ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অথবা আন্তঃব্যাংক বাজারে অতিরিক্ত ডলার বিক্রি করতে পারে।
তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিয়মিতভাবে ডলার কিনছে না। ফলে যেসব ব্যাংকের হাতে অতিরিক্ত ডলার রয়েছে, তাদের জন্য অন্য ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করা গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছে।
এতে আন্তঃব্যাংক বাজারে সরবরাহকারী ও ক্রেতা ব্যাংকের মধ্যে লেনদেন বাড়ছে। একদিকে অতিরিক্ত ডলার থাকা ব্যাংকগুলো তাদের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে যেসব ব্যাংকের ডলার প্রয়োজন, তারা বাজার থেকেই তা সংগ্রহ করতে পারছে।
সরকারি অর্থ পরিশোধের প্রয়োজনেও বাড়ছে চাহিদা
আন্তঃব্যাংক বাজারে লেনদেন বৃদ্ধির আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হলো সরকারের আসন্ন বৈদেশিক অর্থ পরিশোধ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরবর্তী সপ্তাহে সরকারের কিছু অর্থ পরিশোধের দায় রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ডলার আগেভাগে সংগ্রহ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি মাসে যেসব ব্যাংকের সরকারি অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব রয়েছে, তারা অন্য ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছে। এর ফলে ডলারের চাহিদা থাকা ব্যাংকগুলো আন্তঃব্যাংক বাজারে সক্রিয় হয়েছে।
একই সঙ্গে কিছু ব্যাংক চলতি মাসে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে। সেই সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তারা আগেভাগে ডলার সংগ্রহ করছে এবং নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান শক্তিশালী রাখার চেষ্টা করছে।
এই পরিস্থিতিতে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেশি থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের চাহিদা বেড়ে যেতে পারে। কারণ সামগ্রিক বাজারে ডলার পর্যাপ্ত থাকা এবং প্রতিটি ব্যাংকের প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার হাতে থাকা এক বিষয় নয়। আন্তঃব্যাংক বাজার মূলত এই পার্থক্য সমন্বয় করতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স কমলেও অর্থবছরের শুরুতে প্রবৃদ্ধি
ডলারের বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে রেমিট্যান্সের সাম্প্রতিক প্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ২ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন। গত ১১ মাসের মধ্যে এটি ছিল সর্বনিম্ন মাসিক রেমিট্যান্সের পরিমাণ।
সেপ্টেম্বরের এই পরিসংখ্যান কিছু ব্যাংকের মধ্যে চলতি মাসে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তবে এক মাসের প্রবাহ কমে যাওয়াকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা করার আগে পরবর্তী মাসগুলোর তথ্যও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রেমিট্যান্সের চিত্র ছিল তুলনামূলক ইতিবাচক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশে মোট ৫ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবাহ প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
রেমিট্যান্সের এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করেছে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করায় ডলারের জোগান বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি রপ্তানি আয় থেকেও বৈদেশিক মুদ্রা আসে। এই দুই উৎসের প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে ব্যাংকগুলোর ডলার সংগ্রহের চাপ কমতে পারে।
চলতি হিসাবের উদ্বৃত্তেও উন্নতির চিত্র
দেশের বৈদেশিক লেনদেনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো চলতি হিসাবের ভারসাম্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশের চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত বেড়ে ৫৯৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই উদ্বৃত্ত ছিল ১৯৭ মিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত তিন গুণেরও বেশি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি এই উন্নতির অন্যতম প্রধান সহায়ক ছিল।
চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত বৃদ্ধি সাধারণভাবে বোঝায় যে পণ্য ও সেবাবাণিজ্য, আয় এবং চলতি স্থানান্তরসহ সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক লেনদেনের সমন্বিত হিসাবে দেশের প্রাপ্তি ব্যয়ের চেয়ে বেশি রয়েছে। তবে এর পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য আমদানি-রপ্তানি, সেবা খাত এবং অন্যান্য উপাদানের তথ্যও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এই উন্নতি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের জন্য সহায়ক হতে পারে। কারণ বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়লে আন্তর্জাতিক লেনদেন মেটানোর সক্ষমতা উন্নত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে রেমিট্যান্স ও চলতি হিসাবের উদ্বৃত্তের ইতিবাচক প্রবণতা বজায় থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের আয় ও ব্যয়ের ওপর।
ডলারের বিনিময় হার কমায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বাজারে ডলারের বিনিময় হার কমতে থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় তিন মাসের বিরতির পর নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার কিনেছিল।
বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়লে এবং চাহিদা তুলনামূলক কম থাকলে বিনিময় হারের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনলে অতিরিক্ত সরবরাহের একটি অংশ শোষিত হয়। তবে এই ধরনের পদক্ষেপের প্রভাব নির্ভর করে বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি, লেনদেনের পরিমাণ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির ওপর।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনা বন্ধ রাখায় অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা থাকা ব্যাংকগুলো আন্তঃব্যাংক বাজারের দিকে বেশি ঝুঁকছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর মধ্যে সরাসরি ডলার কেনাবেচার প্রয়োজন বেড়েছে।
পাঁচ বছরের সর্বোচ্চ লেনদেন কি ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত
এক দিনে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি লেনদেন হওয়াকে আন্তঃব্যাংক বাজারের কার্যক্রম বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাজারটি খুব বেশি সক্রিয় ছিল না। সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে এবং লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে।
তবে শুধু লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেই ডলারের বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বাজার কতটা কার্যকরভাবে ডলার সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে পারছে, বিনিময় হার কতটা স্থিতিশীল থাকছে এবং ব্যাংকগুলো প্রয়োজনমতো বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করতে পারছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তঃব্যাংক বাজারে লেনদেন বাড়ার একটি সম্ভাব্য সুবিধা হলো, অতিরিক্ত ডলার থাকা ব্যাংক এবং ডলারের প্রয়োজন থাকা ব্যাংকের মধ্যে সরাসরি সমন্বয় সহজ হয়। এতে ব্যাংকগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার জন্য আরও কার্যকর বিকল্প পাওয়া যায়।
তবে ভবিষ্যতে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমে গেলে, আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে কিংবা বৈদেশিক অর্থ পরিশোধের চাপ বাড়লে বাজারের ভারসাম্য আবার পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক তথ্য পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, আন্তঃব্যাংক বাজারে এক দিনে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি লেনদেন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের তুলনামূলক শক্তিশালী প্রবাহ, কিছু ব্যাংকের হাতে অতিরিক্ত ডলার জমা হওয়া এবং অন্য ব্যাংকের অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন—সব মিলিয়ে এই লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে।
আগামী দিনে রেমিট্যান্সের প্রবাহ, রপ্তানি আয়, আমদানি ব্যয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনাবেচার নীতি বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সূচকগুলোতে ইতিবাচক ভারসাম্য বজায় থাকলে আন্তঃব্যাংক বাজারের কার্যকারিতা আরও বাড়তে পারে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সহায়ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

