রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১১ জন মহাব্যবস্থাপককে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। পদোন্নতির পাশাপাশি তাঁদের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পদায়নও করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা এত দিন ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছিলেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক। নতুন পদে তাঁদের কেউ নিজ ব্যাংকেই থেকে গেছেন, কেউ আবার বদলি হয়ে গেছেন অন্য প্রতিষ্ঠানে।
যাঁরা পদোন্নতি পেয়ে নিজ ব্যাংকেই দায়িত্ব পেয়েছেন, তাঁদের তালিকায় আছেন রূপালী ব্যাংকের মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান ও শিকদার ফারুক এ আজম। অগ্রণী ব্যাংকে ডিএমডি হয়েছেন মোহাম্মদ ফজলুল করিম। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একই পদ পেয়েছেন আবু সাঈদ মো. রওশানুল হক। জনতা ব্যাংকে পদোন্নতি পেয়েছেন মো. আব্দুল মতিন। সোনালী ব্যাংকে একসঙ্গে ডিএমডি হয়েছেন মো. জামান মোল্লা ও মো. সাফায়েত হোসেন পাটওয়ারী। অর্থাৎ ১১ জনের মধ্যে সাতজন নিজ প্রতিষ্ঠানেই উচ্চতর পদে উঠেছেন।
বাকি চারজনকে পদোন্নতির সঙ্গে সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে আশরাফুজ্জামান খান গেছেন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে। রূপালী ব্যাংক থেকে মো. ইকবাল হোসেন খাঁকে পাঠানো হয়েছে জনতা ব্যাংকে। অগ্রণী ব্যাংক থেকে শাহীনূর সুলতানা গেছেন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে। আর বেসিক ব্যাংক থেকে মো. হাসান ইমামকে পদায়ন করা হয়েছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশে।
এই তালিকা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের পদে এখন পদোন্নতি ও পদায়ন কেন্দ্রীয়ভাবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকেই নির্ধারিত হচ্ছে। একই প্রজ্ঞাপনে একাধিক ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নাম থাকায় বোঝা যায়, পুরো খাতের জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালার আওতায় কাজটি করা হয়েছে। রূপালী, জনতা, সোনালী ও কৃষি ব্যাংকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানে একাধিক কর্মকর্তা একসঙ্গে ডিএমডি হওয়ায় সেখানে ব্যবস্থাপনার ওপরের স্তর আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা যায়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের চাকরি পরিচালিত হবে ‘রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক পদে মনোনয়ন, নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী। এর বাইরে সরকার সময়ে সময়ে যেসব নীতিমালা ও প্রজ্ঞাপন জারি করবে, সেগুলোও তাঁদের চাকরির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
নীতিমালাটি চলতি বছরের হওয়ায় ধারণা করা যায়, এটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে নির্দিষ্ট কাঠামো ও নিয়ম প্রতিষ্ঠার চেষ্টার অংশ। তবে নীতিমালার বিস্তারিত শর্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি। তাই কোন মানদণ্ডে কর্মকর্তাদের বাছাই করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো পুরো চিত্র পাওয়া যায়নি।
পদোন্নতির এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব আরও বাড়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বর্তমান বাস্তবতার কারণে। এসব ব্যাংক দেশের ব্যাংক খাতের বড় অংশ ধারণ করে। ফলে এখানে ব্যবস্থাপনার ওপরের স্তরে যাঁরা দায়িত্ব নেন, তাঁদের সিদ্ধান্ত ঋণ বিতরণ, আদায় ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। নতুন ডিএমডিরা কতটা স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে এসব প্রতিষ্ঠানের গতি।
সব মিলিয়ে ১১ কর্মকর্তার এই পদোন্নতি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় নতুন নেতৃত্ব যুক্ত করল। এখন দেখার বিষয়, নতুন নীতিমালার আওতায় হওয়া এই নিয়োগ ও বদলি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

