ব্র্যাক ব্যাংকের পর্ষদে এখন একই শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ তিনজন প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ দেওয়া যাবে। এ জন্য ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর একটি বিধান শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (১২ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আইনটির ১২১ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে ব্র্যাক ব্যাংকের ক্ষেত্রে ২৩(১)(ককক) ধারার বিধান শিথিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকটির ১০ শতাংশ বা তার বেশি, কিন্তু ৫০ শতাংশের কম শেয়ার আছে, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিক প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে এই সুবিধার আওতায় কোনো একক প্রতিষ্ঠান থেকে তিনজনের বেশি প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ করা যাবে না।
বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষ থেকে একজনের বেশি প্রতিনিধি পরিচালক রাখার সুযোগ নেই। ব্যাংক-কোম্পানি আইনের ২৩(১)(ককক) ধারায় এই বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে সাধারণ নিয়মে একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে পর্ষদে বসতে পারেন কেবল একজন পরিচালক। ব্র্যাক ব্যাংকের ক্ষেত্রে সেই বাধা এখন শিথিল করা হলো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, ব্র্যাক ব্যাংকের প্রায় ৪৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক ব্র্যাক। আইনে একই প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিক প্রতিনিধি নিয়োগের সুযোগ না থাকায় এ ক্ষেত্রে বিধান শিথিল করা হয়েছে। এখন নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ তিনজন প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ দেওয়া যাবে।
এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বোঝা যায় ব্যাংকের মালিকানাকাঠামো দেখলে। ব্যাংকটির প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি শেয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকলেও এত দিন পর্ষদে তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল একজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। নতুন ব্যবস্থায় বড় শেয়ারধারীর প্রতিনিধিত্ব মালিকানার অনুপাতে বাড়ার সুযোগ তৈরি হলো। এতে ব্যাংকের নীতিনির্ধারণে ওই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আরও জোরালো হতে পারে।
তবে প্রজ্ঞাপনে শিথিলতার ভিত্তি হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংকের বিশেষ কোনো পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তার বক্তব্যেও মূলত মালিকানার হিসাবই এসেছে। শিথিলতার সঙ্গে কী শর্ত যুক্ত থাকবে এবং ব্র্যাক কবে নাগাদ নতুন পরিচালক মনোনীত করবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। এ ছাড়া আইনের ধারা শিথিল করে একটি নির্দিষ্ট ব্যাংকের জন্য সুবিধা দেওয়ার ফলে অন্য ব্যাংকগুলোও একই সুবিধা চাইবে কি না, সেটিও ভবিষ্যতে আলোচনার বিষয় হতে পারে।
কর্পোরেট সুশাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে পর্ষদে একই মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বেশি হলে স্বতন্ত্র ও পেশাদার পরিচালকদের ভারসাম্য কেমন থাকবে, সেই প্রশ্নও উঠতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বা ব্র্যাক ব্যাংকের আরও ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে চিত্র স্পষ্ট হবে।

