অর্থের ইতিহাস মূলত মানুষের আস্থা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিবর্তনের ইতিহাস। পণ্য বিনিময় থেকে ধাতব মুদ্রা, কাগজের নোট, ব্যাংক হিসাব ও প্লাস্টিক কার্ড পেরিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি এখন দ্রুত এগোচ্ছে ডিজিটাল লেনদেনের দিকে। মোবাইল আর্থিক সেবা, তাৎক্ষণিক অর্থ স্থানান্তর, ব্লকচেইন প্রযুক্তি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রচলিত অর্থব্যবস্থার ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সামনে তৈরি হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় মুদ্রার ভূমিকা কীভাবে বজায় রাখা যায়?
২০২৬ সালের বাস্তবতায় এই পরিবর্তন আর কেবল প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের বিষয় নয়; এটি মুদ্রানীতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক লেনদেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও রাষ্ট্রের আর্থিক সার্বভৌমত্বের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। তবে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার মানেই কাগজের টাকার অবসান কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা নয়। বরং বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো একদিকে বেসরকারি ক্রিপ্টোসম্পদের ঝুঁকি মোকাবিলা করছে, অন্যদিকে নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রার সম্ভাবনা যাচাই করছে। বাংলাদেশের জন্যও এখন মূল প্রশ্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিরাপদ, দক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ নির্ধারণ করা।
অর্থের বিবর্তন: ডিজিটাল লেনদেন মানেই ক্রিপ্টোকারেন্সি নয়। মানবসভ্যতার প্রাথমিক পর্যায়ে পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। পরে ধাতব মুদ্রা ও কাগজের নোট বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। আধুনিক অর্থব্যবস্থায় কাগজের নোটের পাশাপাশি ব্যাংক আমানত, কার্ডভিত্তিক লেনদেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো সেবার বিস্তার মানুষের দৈনন্দিন অর্থ লেনদেনের ধরন বদলে দিয়েছে।
তবে অর্থের ডিজিটাল ব্যবহার এবং ডিজিটাল মুদ্রার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর সময় সাধারণত প্রচলিত জাতীয় মুদ্রাতেই লেনদেন সম্পন্ন হয়। অর্থের হিসাব ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষিত ও স্থানান্তরিত হলেও তার ভিত্তি থাকে ব্যাংক আমানত বা প্রচলিত মুদ্রা।
অন্যদিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো এমন একধরনের ডিজিটাল সম্পদ, যা সাধারণত ক্রিপ্টোগ্রাফি ও বিতরণকৃত হিসাবব্যবস্থার সাহায্যে পরিচালিত হয়। বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের মতো সম্পদ কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি ইস্যু করে না। এগুলোর মূল্য বাজারের চাহিদা, সরবরাহ, বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উপাদানের ওপর নির্ভরশীল। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে ওঠানামা করতে পারে।
এখানে আরও একটি ধারণা গুরুত্বপূর্ণ—কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা বা সিবিডিসি। এটি কোনো বেসরকারি ক্রিপ্টোকারেন্সি নয়; বরং জাতীয় মুদ্রার একটি ডিজিটাল রূপ, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইস্যু করে। সুতরাং ডিজিটাল লেনদেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রাকে একই ধারণা হিসেবে দেখা নীতিগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ডিজিটাল মুদ্রার নতুন প্রতিযোগিতা। ডিজিটাল অর্থব্যবস্থার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর উদ্বেগও পরিবর্তিত হচ্ছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের পরিমাণ বাড়ছে। একই সময়ে বেসরকারি ডিজিটাল সম্পদ এবং ডলারভিত্তিক স্থিতিশীল ডিজিটাল মুদ্রা বা স্টেবলকয়েনের ব্যবহার আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টসের ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট প্রকাশিত ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ৯৩টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে ৮৫টি—অর্থাৎ প্রায় ৯১ শতাংশ—খুচরা পর্যায়ের ডিজিটাল মুদ্রা, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের ডিজিটাল মুদ্রা অথবা উভয় ধরনের মুদ্রা নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছিল। জরিপে আরও দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহারের গবেষণা খুচরা পর্যায়ের তুলনায় বেশি অগ্রসর।
এই পরিসংখ্যান ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আগ্রহের ব্যাপকতা তুলে ধরে। তবে গবেষণা, পরীক্ষামূলক প্রয়োগ এবং বাস্তব প্রচলন এক বিষয় নয়। কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ে গবেষণা করছে বলেই যে সেটি চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমনটি বলা যায় না।
আটলান্টিক কাউন্সিলের ২০২৬ সালের মে মাসে হালনাগাদ করা ডিজিটাল মুদ্রা অনুসরণব্যবস্থা অনুযায়ী, বিশ্বের ১৪৬টি দেশ ও মুদ্রা অঞ্চল—যারা সম্মিলিতভাবে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের ৯৮ শতাংশেরও বেশি প্রতিনিধিত্ব করে—কোনো না কোনো পর্যায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ে কাজ করছিল। এসব দেশের মধ্যে ৭৭টি উন্নত পর্যায়ে গবেষণা, উন্নয়ন, পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বা বাস্তবায়নের প্রস্তুতিতে ছিল। বিশ্বব্যাপী ৪১টি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের তথ্যও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পূর্ণাঙ্গভাবে খুচরা পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিজিটাল মুদ্রা চালু করেছে মাত্র তিনটি দেশ—বাহামা, জ্যামাইকা ও নাইজেরিয়া। দেশগুলো যথাক্রমে স্যান্ড ডলার, জ্যাম-ডেক্স এবং ই-নাইরা চালু করেছে। বাস্তব অভিজ্ঞতায় এসব ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানো, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা দূর করা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।
অর্থাৎ, বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চললেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো সীমিত। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য এই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ; কারণ ডিজিটাল অর্থনীতির প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অর্থ তাড়াহুড়া করে নতুন মুদ্রা চালু করা নয়, বরং প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।
ক্রিপ্টোকারেন্সি: উদ্ভাবনের সুযোগ, নাকি আর্থিক ঝুঁকি? ক্রিপ্টোকারেন্সির সমর্থকেরা দ্রুত অর্থ স্থানান্তর, মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নির্দিষ্ট ধরনের আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করার সম্ভাবনার কথা বলেন। ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের নতুন পদ্ধতিও তৈরি হয়েছে। এ কারণে আর্থিক প্রযুক্তির উন্নয়নে ক্রিপ্টোসম্পদ ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
তবে এসব সম্ভাবনার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিও রয়েছে। বিটকয়েনের মতো সম্পদের বাজারমূল্য অস্থিতিশীল হতে পারে। বিনিয়োগকারীরা প্রতারণামূলক প্রকল্প, ভুয়া বিনিয়োগমাধ্যম, সাইবার হামলা কিংবা ব্যক্তিগত গোপন চাবি হারানোর কারণে অর্থ হারাতে পারেন। কোনো বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্কে লেনদেন প্রযুক্তিগতভাবে যাচাই করা গেলেও ব্যবহারকারীর অর্থ ফেরত পাওয়া বা প্রতারণার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার নিশ্চিত হয় না।
এ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল সম্পদ ব্যবহার করে অর্থের উৎস গোপন করা, অবৈধ লেনদেন পরিচালনা কিংবা বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে পাশ কাটানোর ঝুঁকি রয়েছে। তবে সব ক্রিপ্টো লেনদেনকে অপরাধমূলক বলা যেমন সঠিক নয়, তেমনি প্রযুক্তির সুবিধার কথা বলে আর্থিক ও আইনি ঝুঁকি উপেক্ষা করাও যুক্তিসংগত নয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রিপ্টোসম্পদ সম্পর্কে নীতিগত অবস্থানও এক নয়। কোনো কোনো দেশে নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে ক্রিপ্টোসম্পদ কেনাবেচা বা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে; অন্য দেশে বিধিনিষেধ কঠোর। কোনো দেশে নির্দিষ্ট ক্রিপ্টোসম্পদের বাণিজ্য অনুমোদিত হওয়া মানেই সেটি সরকারি মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃত—এমন নয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই পার্থক্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি: আইনি অবস্থান ও বাস্তবতা। বাংলাদেশ ব্যাংক ভার্চ্যুয়াল সম্পদ ও ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার বিষয়ে সতর্কতামূলক অবস্থান গ্রহণ করেছে। ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জারি করা বৈদেশিক মুদ্রানীতিসংক্রান্ত পরিপত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা স্বীকৃত মুদ্রা নয়। এগুলো অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা বা অনুমোদিত লেনদেন ও বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবেও স্বীকৃত নয়। পরিপত্রে ভার্চ্যুয়াল সম্পদ অর্জন, বিনিময়, স্থানান্তর, লেনদেন এবং এসব কার্যক্রমে সহায়তার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, ক্রিপ্টোসম্পদ কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের ইস্যু করা মুদ্রা নয় এবং এর বিপরীতে প্রচলিত মুদ্রার মতো আর্থিক দাবি বা রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা থাকে না। ফলে এর মূল্য অস্থিতিশীলতা এবং ব্যবহারকারীর আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বেশি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পাশ কাটানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
এখানে আইনগত নির্ভুলতা বজায় রাখা জরুরি। বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃত নয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট লেনদেন অনুমোদন করে না। তবে প্রতিটি ক্রিপ্টোসম্পদ-সংক্রান্ত কাজের ক্ষেত্রে কোন আইন প্রযোজ্য হবে এবং কী ধরনের দায় সৃষ্টি হবে, তা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ও প্রযোজ্য আইনি বিধানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। তাই সব ধরনের ক্রিপ্টোসম্পদ ধারণ বা সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কর্মকাণ্ডকে কোনো নির্দিষ্ট আইনের অধীনে একইভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে ঘোষণা করার আগে আইনের সুনির্দিষ্ট বিধান যাচাই করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আইনি সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে ক্রিপ্টোসম্পদ সম্পর্কে আগ্রহের বিষয়টি আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। চেইনঅ্যানালাইসিসের ২০২৫ সালের বৈশ্বিক ক্রিপ্টো গ্রহণযোগ্যতা সূচকে ১৫১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৩তম অবস্থানে ছিল। এই সূচক বিভিন্ন ধরনের ক্রিপ্টোসেবা ও লেনদেনের আনুমানিক পরিমাণ বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়। তবে এটি দেশের মোট ক্রিপ্টো ব্যবহারকারীর সরাসরি গণনা নয় এবং এই অবস্থান বাংলাদেশের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের আইনি অনুমোদনও নির্দেশ করে না।
এই তথ্যের তাৎপর্য হলো, নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধের পাশাপাশি ডিজিটাল সম্পদ সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ ও ব্যবহার-প্রবণতাও নীতিনির্ধারণের আলোচনায় বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে অনলাইনভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিসেবা এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিজিটাল সম্পদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা: রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল অর্থ। বেসরকারি ক্রিপ্টোসম্পদের অস্থিতিশীলতা ও নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সমস্যার বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা একটি ভিন্ন ধারণা উপস্থাপন করে। সিবিডিসি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায় হিসেবে স্বীকৃত ডিজিটাল মুদ্রা। এটি চালু করা হলে জাতীয় মুদ্রার ডিজিটাল রূপে লেনদেনের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যেখানে মুদ্রার মূল্য প্রচলিত জাতীয় মুদ্রার সঙ্গে সমমূল্যে নির্ধারিত থাকবে।
সিবিডিসির দুটি প্রধান ধরন রয়েছে। খুচরা পর্যায়ের ডিজিটাল মুদ্রা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন লেনদেনের জন্য ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। অন্যদিকে, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের ডিজিটাল মুদ্রা মূলত ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার লেনদেন, নিষ্পত্তি এবং আর্থিক বাজারের কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত।
এ ধরনের মুদ্রার সম্ভাব্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে লেনদেনের দক্ষতা বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট ধরনের অর্থ স্থানান্তরের ব্যয় কমানো, সরকারি অর্থ বিতরণ সহজ করা এবং আর্থিক ব্যবস্থায় নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক দেশের ডিজিটাল মুদ্রাব্যবস্থা উপযুক্তভাবে সংযুক্ত করা গেলে আন্তসীমান্ত লেনদেনের কিছু ধাপও সহজ হতে পারে।
তবে এসব সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্জিত হবে না। সিবিডিসি চালুর ফলে ব্যাংক আমানতের ওপর কী প্রভাব পড়বে, গ্রাহকের তথ্য কতটা সুরক্ষিত থাকবে, প্রযুক্তিগত ত্রুটি হলে কীভাবে লেনদেন সচল রাখা হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় কত বাড়বে—এসব প্রশ্নের উত্তর আগে খুঁজতে হবে। এ ছাড়া ডিজিটাল মুদ্রা চালু হলেই কালো টাকা, কর ফাঁকি কিংবা অর্থপাচার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে—এমন ধারণারও ভিত্তি নেই। ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য নিরীক্ষা ও অনুসরণ সহজ হতে পারে, কিন্তু অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, তথ্যের মান, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং যথাযথ তদারকি অপরিহার্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল টাকা নিয়ে গবেষণা কত দূর? বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদের ইউনিট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত গবেষণাপত্র ‘সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি: কনসেপ্টস অ্যান্ড প্রসপেক্টস ইন বাংলাদেশ’।
গবেষণাপত্রটিতে বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রার সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিস্তৃত গবেষণা, ব্যবহারকারীদের মতামত যাচাই এবং পরীক্ষামূলক ডিজিটাল মুদ্রার নমুনা তৈরির মতো পদক্ষেপের সুপারিশ রয়েছে।
এটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা। তবে গবেষণাপত্র প্রকাশকে ডিজিটাল টাকা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প ইতিমধ্যে শুরু হওয়ার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। গবেষণার সুপারিশ, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে ভবিষ্যতে সিবিডিসি চালুর সম্ভাবনা যাচাই করতে হলে প্রথমে এর ব্যবহারিক প্রয়োজন নির্ধারণ করতে হবে। দেশের বর্তমান মোবাইল আর্থিক সেবা, ব্যাংকিং অবকাঠামো ও তাৎক্ষণিক লেনদেনব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে মানুষের চাহিদা পূরণ করছে, তা মূল্যায়ন জরুরি। বিদ্যমান ব্যবস্থার তুলনায় ডিজিটাল মুদ্রা কী অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারবে, সেটিও নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে।
এর পাশাপাশি ইন্টারনেটবিহীন বা দুর্বল সংযোগের এলাকায় লেনদেনের ব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা, গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। এসব বিষয় নিশ্চিত না করে কেবল আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আকাঙ্ক্ষা থেকে ডিজিটাল মুদ্রা চালু করা যথার্থ হবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি কোন দিকে যাচ্ছে? বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিতে দুটি সমান্তরাল ধারা দেখা যায়—একদিকে বেসরকারি ক্রিপ্টোসম্পদের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল আর্থিক অবকাঠামোর উন্নয়ন।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই অবস্থানকে ‘ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সমন্বয়’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। একদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে; অন্যদিকে ডিজিটাল অর্থব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণাও চলছে।
এই কৌশলের প্রথম দিক হলো আর্থিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। ক্রিপ্টোসম্পদ ব্যবহার করে অবৈধ অর্থ স্থানান্তর, অর্থপাচার এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পাশ কাটানোর ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয় দিক হলো বৈধ ডিজিটাল লেনদেনের অবকাঠামো আধুনিক করা। ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং অন্যান্য অনুমোদিত অর্থ স্থানান্তরব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃসংযোগ বাড়ানো গেলে গ্রাহকের লেনদেন সহজ হতে পারে। এতে নতুন মুদ্রা চালু না করেও ডিজিটাল অর্থনীতির অনেক সুবিধা অর্জন সম্ভব।
তৃতীয় দিক হলো সিবিডিসি নিয়ে সতর্ক গবেষণা। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও দেশীয় প্রয়োজন বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে বর্তমানে গবেষণা চলার তথ্য থেকে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না যে বাংলাদেশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডিজিটাল টাকা চালু হবেই, কিংবা কাগজের নোট তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। অতএব, বাংলাদেশের নীতির সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা হলো প্রচলিত মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে ডিজিটাল লেনদেনের উন্নয়ন, ক্রিপ্টোসম্পদের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই।
বাংলাদেশের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ে সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবায়নের পথে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা রয়েছে। প্রথমত, সাইবার নিরাপত্তা। আর্থিক অবকাঠামোর ওপর সাইবার হামলা, তথ্য চুরি কিংবা প্রযুক্তিগত ত্রুটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি সৃষ্টি করতে পারে। তাই শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা, নিয়মিত পরীক্ষা, কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা। ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে, কারা তা দেখতে পারবে এবং কোন পরিস্থিতিতে তথ্য প্রকাশ করা যাবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি। আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি। দেশের সব মানুষ সমানভাবে স্মার্টফোন, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট বা ডিজিটাল আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকার পান না। বয়স্ক মানুষ, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমাবদ্ধ ব্যক্তিদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। নগদ অর্থের ব্যবহার বজায় রাখার প্রশ্নটিও তাই গুরুত্বপূর্ণ।
চতুর্থত, ব্যাংকিং খাতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব। মানুষ যদি বাণিজ্যিক ব্যাংকের আমানত থেকে বড় পরিমাণ অর্থ সরিয়ে সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রায় রাখে, তাহলে ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসতে পারে। এ কারণে সিবিডিসির নকশা ও ব্যবহারের সীমা নির্ধারণের আগে সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা দরকার। পঞ্চমত, আইন ও নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়। ডিজিটাল সম্পদ, বৈদেশিক মুদ্রা, অর্থপাচার প্রতিরোধ, করব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিধানগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে গিয়ে বিদ্যমান আইনি দায়বদ্ধতা দুর্বল করা যাবে না।
ভবিষ্যতের করণীয়: তাড়াহুড়া নয়, প্রমাণভিত্তিক নীতি। বাংলাদেশের জন্য প্রথম প্রয়োজন ডিজিটাল মুদ্রার সম্ভাব্য ব্যবহার ও প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা। কোন সমস্যার সমাধানে সিবিডিসি কার্যকর হবে এবং বিদ্যমান ব্যাংকিং বা মোবাইল আর্থিক সেবা দিয়ে সেই সমস্যার সমাধান সম্ভব কি না—তা তুলনামূলকভাবে যাচাই করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণার ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিস্তৃত সমীক্ষা করা যেতে পারে। প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত হলে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের সম্ভাবনা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এ ধরনের কার্যক্রম শুরুর আগে স্পষ্ট উদ্দেশ্য, নিরাপত্তা মানদণ্ড, অংশগ্রহণকারীর সুরক্ষা এবং ফলাফল মূল্যায়নের পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। তৃতীয়ত, বৈধ ডিজিটাল লেনদেনের অবকাঠামো শক্তিশালী করতে হবে। ব্যাংক ও অনুমোদিত আর্থিক সেবার মধ্যে আন্তঃসংযোগ, দ্রুত অর্থ স্থানান্তর, কম লেনদেন ব্যয় এবং কার্যকর গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা ডিজিটাল অর্থনীতির বাস্তব অগ্রগতির ভিত্তি হতে পারে।
চতুর্থত, জনগণের আর্থিক সাক্ষরতা বাড়াতে হবে। ডিজিটাল টাকা, ব্যাংক আমানত, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও স্টেবলকয়েনের পার্থক্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় তুলে ধরা প্রয়োজন। অনলাইন বিনিয়োগের প্রতারণা, মূল্য অস্থিতিশীলতা এবং আইনি ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। পঞ্চমত, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। ডিজিটাল মুদ্রা চালু করা দেশগুলোর সাফল্যের পাশাপাশি সীমাবদ্ধতাও বিশ্লেষণ করতে হবে। বিশেষ করে ব্যবহারকারীর আস্থা, প্রযুক্তিগত ব্যয়, গোপনীয়তা এবং বিদ্যমান আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়গুলো বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
অর্থের ভবিষ্যৎ ডিজিটাল, কিন্তু আস্থাই মূল ভিত্তি। কাগজের টাকা থেকে ডিজিটাল অর্থের দিকে বিশ্ব অর্থনীতির অগ্রযাত্রা ইতিমধ্যে স্পষ্ট। তবে এই পরিবর্তনের অর্থ প্রচলিত মুদ্রার অবসান কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির সর্বজনীন আধিপত্য নয়। বরং ভবিষ্যতের অর্থব্যবস্থায় নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, মোবাইল আর্থিক সেবা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রিত আর্থিক প্রযুক্তি পাশাপাশি ভূমিকা পালন করতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আর্থিক স্থিতিশীলতা, রাষ্ট্রীয় মুদ্রার গ্রহণযোগ্যতা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। ক্রিপ্টোকারেন্সির জনপ্রিয়তা যেমন আইনি অনুমোদনের বিকল্প নয়, তেমনি ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ে গবেষণাও বাস্তবায়নের চূড়ান্ত ঘোষণা নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে তাই প্রয়োজন সতর্কতা ও উদ্ভাবনের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার, বৈধ আর্থিক অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, ক্রিপ্টোসম্পদের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং সিবিডিসির সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রমাণভিত্তিক গবেষণা—এই চারটি ক্ষেত্র ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত অর্থের রূপ বদলালেও তার মূল ভিত্তি বদলায় না: মানুষের আস্থা। যে ডিজিটাল ব্যবস্থা নিরাপত্তা, সহজ ব্যবহার, গ্রহণযোগ্যতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারবে, ভবিষ্যতের অর্থনীতিতে তার ভূমিকাই হবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের জন্যও লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তোলা নয়; বরং এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা নির্মাণ করা, যা আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ এবং জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধ।

