বৈশ্বিক সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তির কিছু নেই। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেন আগের মতোই চলছে।
বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ওয়েবসাইটে কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা এখন পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে হামলার যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, এতে গ্রাহকদের লেনদেনে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কেউ ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করলে বর্তমানে সেখানে সাইটটি বন্ধ থাকার বার্তা দেখা যাচ্ছে।
সরকারি সেবা, ব্যাংকিং, ই-কমার্স, সংবাদমাধ্যমসহ নানা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এখন ইন্টারনেট ও সফটওয়্যারের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। এসব ওয়েবসাইটের বড় একটি অংশ তৈরি হয়েছে পিএইচপি নামের প্রোগ্রামিং ভাষায়। সম্প্রতি এই ভাষায় দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রুটির খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন দেশের সরকার জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে। বুধবার রাত থেকে বিশ্বের নানা দেশের সরকারি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিতে শুরু করে। তবুও লাখ লাখ হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে একজন গবেষক পিএইচপিতে এই দুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ত্রুটি খুঁজে পান। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটে এই প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করা হয়, ফলে ঝুঁকির পরিধিও অনেক বড়।
বিবিসির সাইবারবিষয়ক প্রতিনিধি জো টাইডি পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, মারাত্মক সাইবার হামলা ঠেকাতে আইটি দলগুলো তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর ফলে একের পর এক ওয়েবসাইট অফলাইনে চলে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের এডিনবরা কাউন্সিলের ওয়েবসাইট এবং বিবিসির ওয়েবসাইটের ‘ডক্টর হু’ বিভাগ বন্ধ করা হয়েছে। জাপান, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের একাধিক কোম্পানির সাইটও নামিয়ে ফেলা হয়েছে। এমনকি কিছু সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইটও বন্ধ রাখতে হয়েছে। অথচ এই সংস্থাগুলোই সাধারণ মানুষকে ঝুঁকির গুরুত্ব সম্পর্কে সতর্ক করার চেষ্টা করছিল।
এই প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশ ব্যাংক বাড়তি সতর্কতা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার পথে হেঁটেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সাধারণত নীতিমালা, সার্কুলার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়। ফলে এটি সাইবার হামলাকারীদের জন্য আকর্ষণীয় লক্ষ্য হতে পারে। তাই আগেভাগে সাইট বন্ধ রাখাকে ঝুঁকি কমানোর একটি সতর্ক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যায়।
তবে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়। ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেও ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যাংকিং স্বাভাবিক চলছে। এতে বোঝা যায়, গ্রাহকদের লেনদেনের ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য প্রকাশের মাধ্যম আলাদা কাঠামোয় পরিচালিত হয়। ফলে ওয়েবসাইটে সতর্কতা নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের আর্থিক সেবায় প্রভাব পড়ছে না।
ওয়েবসাইটটি কবে নাগাদ আবার চালু হবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। ত্রুটি পরীক্ষার কাজ শেষ হলে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই সাইট চালু করা হতে পারে। আপাতত বিশ্বজুড়ে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

