রূপালী ব্যাংকের পল্লবী শাখার একটি হিসাবে জমা ছিল মাত্র ৬ হাজার টাকা। সেই হিসাবের ২ কোটি টাকার একটি চেক নিষ্পত্তি হওয়া নিয়ে রূপালী ব্যাংক ও আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। নিউ এজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান পূর্বাচল হাভেলি সিটি লিমিটেড কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে টাকা দিতে চেকটি ইস্যু করে। খলিলুর রহমান আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক। ব্যাংকের নথির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেকটি দেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে ছিল মাত্র ৬ হাজার টাকা।
প্রতিষ্ঠানটি ২৪ আগস্ট চেকটি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে জমা দেয়। চেকটি দুবার ফেরত আসে। ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের অটোমেটেড চেক প্রসেসিং সিস্টেম, সংক্ষেপে বিইসিএইচ, দিয়ে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক চেকটি নিষ্পত্তি করে। পূর্বাচল হাভেলি সিটি ২০২৫ সালে রূপালী ব্যাংকের পল্লবী শাখায় একটি স্পেশাল নোটিস ডিপোজিট হিসাব খোলে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক লক্ষ্মীপুর ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এমএ আউয়াল।তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর ২ হাজার টাকা দিয়ে হিসাবটি খোলা হয়। এরপর ৫০ হাজার টাকা ও ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা জমা এবং ৫০ হাজার টাকা ও ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন হয়। মন্তব্যের জন্য বারবার চেষ্টা করেও এমএ আউয়াল ও খলিলুর রহমানকে পাওয়া যায়নি।
রূপালী ব্যাংক বলছে, এই অর্থ পরিশোধ মানুষের ভুল বা কারিগরি ত্রুটির কারণে হয়েছে। পল্লবী শাখার ব্যবস্থাপক রাজ্জাকুল হায়দার বলেন,২০ সেপ্টেম্বর শাখা আল আরাফাহকে ফোন ও ইমেইল করে অর্থ ছাড় বন্ধ রাখতে বলে। পরদিন সকালে চিঠি পাঠিয়ে প্রাপ্তিস্বীকার নেওয়া হয়। তার দাবি, বারবার অনুরোধের পরও খলিলুর রহমান টাকা তুলে নিয়েছেন। রূপালীর কর্মকর্তাদের অভিযোগ, খলিলুর রহমান প্রভাব খাটিয়ে টাকা তুলে নিতে পারেন বলে তাদের আশঙ্কা ছিল। রূপালী বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রতিকার চেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডাকা বিরোধ নিষ্পত্তির সভায় তারা প্রমাণ উপস্থাপন করেছে বলে জানান রাজ্জাকুল হায়দার।
আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক বলছে, তারা ব্যাংকিং নিয়ম মেনেই কাজ করেছে। ব্যাংকের বনানী শাখার ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান জানান, খলিলুর রহমান পূর্বাচল হাভেলি সিটির কাছে দীর্ঘদিন ধরে টাকা পেতেন। তার ভাষ্য, ভুলে হওয়া কোনো পেমেন্ট গ্রাহকের হিসাবে জমা হওয়ার আগে দাবি পেলে ব্যাংক তা ফেরত দিতে পারে। অর্থ ছাড় বন্ধের শেষ সময় ছিল দুপুর ২টা, কিন্তু রূপালী ব্যাংকের ইমেইল এসেছে বিকেল ৪টার পরে, তখন টাকা গ্রাহকের হিসাবে জমা হয়ে গেছে। কারিগরি ত্রুটির দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার যুক্তি, এমন ত্রুটি হলে ওই দিন নিষ্পত্তি হওয়া অন্য চেকগুলোও প্রভাবিত হতো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন,বিইসিএইচ পরিচালনার নিয়মাবলি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে একটি বিরোধ নিষ্পত্তি সভা করেছে। দুই ব্যাংকের দেওয়া বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনার পর এখন আরও তথ্য যাচাই চলছে, যাতে দায় নির্ধারণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা যায়। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের চেক প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থায় আপাতত কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি।

