চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে নতুন করে ১৪ কোটি মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এ-সংক্রান্ত চুক্তি গত বুধবার স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকল্পের কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে নেওয়া এবং সফলভাবে শেষ করাই এই বাড়তি অর্থায়নের মূল লক্ষ্য।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চুক্তিটি সই হয়। সরকারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। বিশ্বব্যাংকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেম।
ইআরডির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও জলবায়ু সহনশীল পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে উন্নত স্যানিটেশন সুবিধার পরিধি বাড়ানোও এর লক্ষ্য। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম ওয়াসার কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক স্থায়িত্ব জোরদার করার বিষয়টিও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে ২০২৫ সাল থেকে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এটি ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। অতিরিক্ত অর্থায়ন যুক্ত হলেও প্রকল্পের মেয়াদে কোনো পরিবর্তন আসছে না, অর্থাৎ বাস্তবায়নের সময়সীমা আগের মতোই থাকছে।
শুরুতে এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অনুমোদিত মূল বরাদ্দ ছিল ২৪ কোটি মার্কিন ডলার। এবার নতুন করে ১৪ কোটি ডলার যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পে সংস্থাটির মোট অর্থায়ন দাঁড়াল ৩৮ কোটি ডলারে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যেতে এবং সফল সমাপ্তি নিশ্চিত করতেই এই বাড়তি অর্থ দেওয়া হচ্ছে।
পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন নগরজীবনের অপরিহার্য সেবা। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে জনসংখ্যা ও নগরায়ণের চাপ বাড়ছে, আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানির উৎসও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ অবস্থায় নির্ভরযোগ্য ও টেকসই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার এই উদ্যোগ নগরবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি যে বাড়তি এই ঋণের সুদের হার, পরিশোধের মেয়াদ কিংবা অন্যান্য শর্ত কী।

