সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চালু হওয়ার প্রথম দুই দিনে গ্রাহকদের মধ্যে বড় ধরনের চাপ দেখা যায়নি। লেনদেন ও আমানতের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কারণে গ্রাহকদের আস্থা ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
গভর্নর জানান, ‘ব্যাংকটি পূর্ণমাত্রায় লেনদেনের জন্য খুলে দিলে কী ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে, সে বিষয়ে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ, এখন পর্যন্ত কার্যক্রম খুবই সুন্দর ও স্থিতিশীলভাবে এগোচ্ছে। নতুন ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পাঁচটি একীভূত ব্যাংকের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত কয়েক মাস ধরে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।’
মুনাফার হার নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শরিয়াভিত্তিক মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান ও নতুন পণ্য একীভূত করে গ্রাহকদের জন্য নতুন শরিয়াহসম্মত প্রোডাক্ট চালু করা হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামী ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ওই দিন ব্যাংকের কার্যক্রম ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।
চাকরি, ছাঁটাই ও বেতন বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ‘আমরা কাউকে ছাঁটাই করতে চাই না। তবে অনিয়মে জড়িত কেউ থাকলে ছাড় দেওয়া হবে না। এই পাঁচ ব্যাংককে ফরেনসিক অডিটের আওতায় আনা হবে। সেখানে অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাঁচ ব্যাংকের জন্য একটি ইউনিক বেতন কাঠামো থাকবে। পদভেদে বেতন কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।’
দুই দিনের মধ্যে ব্যাংক থেকে উত্তোলন হয়েছে ১০৭ কোটি টাকা। গভর্নর জানান, ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিনেন্স অনুযায়ী ইতোমধ্যে রেজুলেশন স্কিম জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী আমানতকারীদের সঙ্গে লেনদেন চলছে। নতুন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে। প্রাথমিকভাবে সরকারি প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই স্বতন্ত্র পরিচালক, একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, একজন ব্যাংকার ও একজন আইন বিশেষজ্ঞ যুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠিত হবে।
ড. আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—একটি হলো সমন্বিত আইটি সিস্টেম চালু করা, যার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি টিম কাজ করছে। অন্যটি হলো পাঁচটি ব্যাংকের অতীত অনিয়ম খতিয়ে দেখা ফরেনসিক অডিট। একই সঙ্গে দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তারা নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে কাজ করতে পারবেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

