পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ থেকে আলাদা হয়ে স্বতন্ত্রভাবে কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল)। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে ব্যাংকটির সাবেক পরিচালনা পর্ষদ।
আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) এসআইবিএলের উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদনটি জমা দেন। আবেদনে ব্যাংকটিকে পৃথক সত্তা হিসেবে পুনর্গঠনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ভেঙে দেওয়া সর্বশেষ পর্ষদের পরিচালক জাবেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হওয়ার পর নতুন যুক্ত হওয়া ১৮(ক) ধারার সুযোগ নিয়েই তারা আবেদন করেছেন। তার দাবি, সাবেক পর্ষদের সদস্যদের পূর্ণ সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, আবেদনটি সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হলে আইন অনুযায়ী তা পর্যালোচনা করা হবে। তবে এখনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার সময় আসেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত বছরের ২১ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাঁচটি ইসলামী ধারার ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়। ব্যাংকগুলো ছিল এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এসআইবিএল। উচ্চ খেলাপি ঋণ, অর্থপাচারের অভিযোগ এবং তারল্য সংকট মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
একীভূতকরণের আগে গত ৫ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারকে শূন্য ঘোষণা করে এবং সেগুলোকে অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত করে। সে সময় তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছিলেন, সম্পদের তুলনায় দায় বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শেয়ারগুলোর মূল্য ঋণাত্মক অবস্থায় পৌঁছেছিল।
পরবর্তীতে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরের সময় ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা হয়। এই ধারায় সাবেক শেয়ারধারকদের নির্দিষ্ট শর্তে পুনরায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এসআইবিএল সেই বিধানকে ভিত্তি করেই আলাদা হওয়ার আবেদন করেছে।
ব্যাংকটির আবেদনে নতুন মূলধন সংগ্রহ, তারল্য পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ কমিয়ে খেলাপি ঋণ আদায়ের ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, দায়িত্ব পেলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বর্তমানে স্থগিত থাকা সরকারি ২২টি হিসাব পুনরায় সচল করে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ফেরত আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ ছাড়া আগামী ১০ বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ১১ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছে এসআইবিএলের সাবেক পরিচালনা পর্ষদ। আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন সাবেক পরিচালক হাকিম মো. ইউসুফ হারুন ভূইয়া, সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, আফিয়া বেগম ও জাবেদুল আলম চৌধুরী।

