ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যাপক সংকটে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং তেহরানের ওপর পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ঐতিহাসিক এই বাণিজ্য সম্পর্ক এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েছে। খবর ইউরোনিউজ।
ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপ ও ইরানের মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র ৩৭২ কোটি ইউরোতে নেমে এসেছে। তুলনায়, দুই দশক আগে ২০০৫ সালে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২,৩৮০ কোটি ইউরো এবং ২০১১ সালে সর্বোচ্চ ২,৭০০ কোটি ইউরো অতিক্রম করেছিল। মাত্র ১৫ বছরে এই বড় ব্যবধান দেখাচ্ছে যে ইরান এখন ইউরোপের জন্য একটি সীমিত বাণিজ্যিক অংশীদার। বর্তমানে ইউরোপের মোট রফতানির মাত্র ০.১ শতাংশই ইরানে যাচ্ছে, আর আমদানি প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ নিম্নগতির প্রধান কারণ হলো ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইইউর নতুন নিষেধাজ্ঞা। মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার অভিযোগে নেওয়া এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিত হয়ে জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। ফলে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ থেকে ইরানে রফতানি হয়েছে ২৯৭ কোটি ইউরো সমমূল্যের পণ্য। এর বিপরীতে ইরান থেকে আমদানি হয়েছে মাত্র ৭৬ কোটি ইউরো, যার ফলে ইউরোপের পক্ষে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রায় ২২০ কোটি ইউরো। ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে জার্মানি এখনো শীর্ষে রয়েছে। মোট বাণিজ্যের ৩১.৮ শতাংশই জার্মানির সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে, যদিও জার্মানির রফতানি কমে ১২৭ কোটি ইউরো থেকে নেমে ৯৬.৩ কোটি ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। শীর্ষ তালিকায় এরপরই আছে ইতালি ও নেদারল্যান্ডস। এই তিন দেশ মিলিয়ে ইইউ-ইরান বাণিজ্যের প্রায় ৬৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
পণ্য বিনিময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউরোপ মূলত উচ্চমূল্যের শিল্পপণ্য রফতানি করছে। যন্ত্রপাতি, মোটরগাড়ি এবং অন্যান্য পরিবহন সরঞ্জাম মোট রফতানির প্রায় ৩৪ শতাংশ বা ১২৮ কোটি ইউরো। এর পর রয়েছে রাসায়নিক পণ্য, যা মোট রফতানির ৩১ শতাংশ বা ১১৩ কোটি ইউরো।
অন্যদিকে, ইরান থেকে ইউরোপে আসা পণ্যের তালিকা সীমিত। আমদানির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে খাদ্যদ্রব্য ও জীবিত প্রাণী, যা ৩৭ শতাংশ বা ৩০.৫ কোটি ইউরো। এরপর ২৩ শতাংশ বা ১৮.৮ কোটি ইউরোর রাসায়নিক পণ্য, প্রায় ২ শতাংশ বা ১৮ কোটি ইউরোর তৈরি পণ্য এবং ১১ শতাংশ বা ৮.৯ কোটি ইউরোর অপরিশোধিত কাঁচামাল রয়েছে।

