গত এক দশকে দেশে কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি এবং অর্থনৈতিক ইউনিটে এসেছে বড় ধরনের বিস্তার। সর্বশেষ অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য বলছে, সেবা খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০২৪—এই সময়ে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে প্রায় ৪৯.৬৫ শতাংশ।
বর্তমানে দেশে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টি, যা এক দশক আগে ছিল ৭৮ লাখের কিছু বেশি। অর্থাৎ এই সময়ে নতুন যুক্ত হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ ৮৪ হাজার ইউনিট। এই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কর্মসংস্থানও বেড়েছে। বর্তমানে এসব ইউনিটে কাজ করছেন ৩ কোটি ৬ লাখের বেশি মানুষ, যা ২০১৩ সালের তুলনায় ২৫.০৩ শতাংশ বেশি। তবে কর্মসংস্থানে এখনও পুরুষের আধিপত্য স্পষ্ট। মোট কর্মরতদের মধ্যে ৮৩.২৮ শতাংশ পুরুষ, নারীর অংশগ্রহণ ১৬.৭১ শতাংশ এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ০.০১ শতাংশ।
দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ, যেখানে মোট ইউনিটের ২৭ শতাংশের বেশি অবস্থিত। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগ। সবচেয়ে কম ইউনিট রয়েছে সিলেট বিভাগে।
অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে সেবা খাত। মোট ইউনিটের ৯০ শতাংশেরও বেশি এই খাতের অন্তর্ভুক্ত। শিল্প খাতের অংশ মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ। এর মধ্যে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা এবং মোটরযান মেরামত খাতই সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে আছে, যার হার ৪১.৮২ শতাংশ।
শিল্প কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের অর্থনীতি মূলত মাইক্রো ও কুটির শিল্পনির্ভর। মোট ইউনিটের মধ্যে মাইক্রো শিল্পের হার ৫৬.৬৭ শতাংশ এবং কুটির শিল্প ৩৮.৭৪ শতাংশ। বিপরীতে মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পের উপস্থিতি খুবই সীমিত। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই ব্যক্তি বা পারিবারিক মালিকানাধীন—এর হার ৮৭.৩৬ শতাংশ। এছাড়া গ্রামীণ এলাকায় অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা শহরের তুলনায় বেশি, যা পল্লী অর্থনীতির বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শুমারির তথ্য দেশের অর্থনীতিতে গত এক দশকের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও সেবা খাতনির্ভর কাঠামোর স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। তবে নারীর অংশগ্রহণ কম থাকা এবং বৃহৎ শিল্পের সীমিত উপস্থিতি ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

