বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইএমএফ এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং চলমান আলোচনাই এখন মূল প্রক্রিয়া।
দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৬ এপ্রিল কোনো বৈঠক হয়নি—বরং ১৭ এপ্রিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই বৈঠকেও ঋণের কিস্তি ছাড় নিয়ে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল আইএমএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকে অংশ নেয়। এতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করে।
আলোচনায় দেশের অর্থনৈতিক নীতি, রাজস্ব আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা এবং ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেশ কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নীতিগত বিষয়ে সরকার তার অবস্থান তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এসব বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলেও উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আলোচনা প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং ধাপে ধাপে সব বিষয় নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে দুই পক্ষই আশাবাদী। আইএমএফও বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সার্বিকভাবে, ঋণের কিস্তি ছাড় নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। তবে চলমান সংলাপ ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

