ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দেশের সিমেন্ট শিল্পে নতুন করে ব্যয় সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কাঁচামাল আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শিপিং রুটে অস্থিরতা ও বাণিজ্য ঝুঁকি বাড়ায় পরিবহন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সিমেন্ট উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল উপাদান ক্লিংকারসহ চুনাপাথর, জিপসাম, স্ল্যাগ ও ফ্লাই অ্যাশের বড় অংশই আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্লিংকারই বিদেশ থেকে আনা হয়, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় উৎপাদনে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে তুলনামূলক কম দামে ক্লিংকার পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুবিধা কমে গেছে। এখন চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যেখানে দাম তুলনামূলক বেশি।
শিল্প খাতের একজন শীর্ষ নির্বাহী জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় পরিবহন ভাড়া ও বীমা ব্যয় দুটোই বেড়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহারের কারণে অতিরিক্ত চার্জও যুক্ত হচ্ছে।
বর্তমানে ক্লিংকারের প্রতি টনে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য দাম বৃদ্ধি হয়েছে বলে জানা গেছে। শুধু কাঁচামাল নয়, শিপিং খরচও প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে, যা পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপের মুখে ফেলেছে।
দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। সিমেন্টের দাম ব্যাগপ্রতি কিছুটা বেড়েছে, তবে প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় আরও বেশি বাড়লেও চাহিদা দুর্বল থাকায় সেই পুরো চাপ ভোক্তাদের ওপর স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, নির্মাণ খাতের দুর্বল চাহিদা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সরকারি প্রকল্পে ধীরগতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে নির্মাণ কার্যক্রম কমে গেছে, যা সিমেন্টের বিক্রিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
সিমেন্ট উৎপাদনকারী সংগঠনের নেতারা মনে করছেন, গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক ধাক্কা খেতে থাকা এই খাত এখন টিকে থাকার চ্যালেঞ্জের মুখে। অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসান সত্ত্বেও বাজারে টিকে থাকার চেষ্টা করছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি টেকসই নয় বলে তারা সতর্ক করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচামালের বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল না হলে এবং নির্মাণ খাতে চাহিদা না বাড়লে সিমেন্ট শিল্পের এই চাপ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
সিভি/কেএইচ

