চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে নির্ধারিত সময়ের পর পড়ে থাকা আংশিক কনটেইনার (এলসিএল) পণ্যের সংরক্ষণ ফি চার গুণ বাড়ানো হয়েছে। টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের গুদামজট কমিয়ে পণ্য খালাসের গতি বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন হার অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে ১১ দিনের বিনামূল্যের সংরক্ষণ সময় শেষ হওয়ার পর এলসিএল পণ্যের জন্য প্রতি টন প্রতিদিন ৬৮ টাকার পরিবর্তে ২৭২ টাকা গুনতে হবে। এলসিএল বা লেস-দ্যান-কনটেইনার-লোড বলতে এমন চালানকে বোঝায়, যার পরিমাণ একটি পূর্ণ সমুদ্রগামী কনটেইনার পূরণ করার মতো নয়।
কেন বাড়ানো হলো সংরক্ষণ ফি?
আরএসজিটির দাবি, অনেক আমদানিকারক সময়মতো পণ্য খালাস না করে টার্মিনালের কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশনকে কম খরচের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে সীমিত গুদাম দীর্ঘ সময় ধরে দখল হয়ে থাকছে এবং নতুন আসা পণ্য সংরক্ষণে জট তৈরি হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক ও জনসংযোগ বিভাগের প্রধান সৈয়দ আরেফ সারওয়ার বলেন, মোট কার্গোর দুই শতাংশেরও কম এলসিএল পণ্য হলেও এর মধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আমদানিকারক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস করেন না। তার ভাষ্য, এতদিন প্রতিদিন প্রতি টনে মাত্র ৬৮ থেকে ৬৯ টাকা ব্যয়ে পণ্য রেখে দেওয়া সম্ভব হওয়ায় অনেকেই সময়মতো খালাসে আগ্রহ দেখাননি। একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় নতুন হার কার্যকর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্যারিফ বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের পর সংরক্ষণ ফি সর্বোচ্চ চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সেই বিধান অনুসারেই নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। আরএসজিটির দাবি, এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য অতিরিক্ত আয় করা নয়; বরং দ্রুত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে টার্মিনালের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা।
তবে এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। তাদের আশঙ্কা, সংরক্ষণ ব্যয় বাড়লে শেষ পর্যন্ত আমদানি ব্যয়ও বাড়বে, যার প্রভাব ব্যবসা-বাণিজ্যে পড়তে পারে। চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী বলেন, সংরক্ষণ ফি এক ধাপে চার গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানানো হয়েছে। তারা সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনারও অনুরোধ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিল্প কাঁচামাল আমদানিকারক বলেন, সব ক্ষেত্রে বিলম্ব ইচ্ছাকৃত হয় না। অনেক সময় কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা, ব্যাংকিং প্রক্রিয়া কিংবা কারখানাসংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে পণ্য ছাড় করাতে দেরি হয়। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় না এনে সংরক্ষণ ফি চার গুণ বাড়ানো হলে ব্যবসার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, পণ্য বন্দরে ফেলে রাখলে আমদানিকারকদেরও অতিরিক্ত খরচ হয়। তাই অপ্রয়োজনে কেউ পণ্য আটকে রাখতে চান না।
পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে পতেঙ্গা টার্মিনাল:
২০২৪ সালে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম বিদেশি কনটেইনার টার্মিনাল অপারেটর হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে আরএসজিটি। গত ১৯ জুন টার্মিনালে চারটি শিপ-টু-শোর ক্রেন পৌঁছানোর মাধ্যমে প্রধান কার্গো হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়। আরএসজিটির সূত্র জানায়, জুলাই থেকে টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।

