মহেশখালীর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে তিতাস গ্যাসের আওতাভুক্ত এলাকায় গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক, সিএনজি এবং অন্যান্য সব শ্রেণির গ্রাহককে ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস জানায়, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোতে সৃষ্ট কারিগরি সমস্যার কারণে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজির সরবরাহ প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) কমে গেছে। এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায়, বিশেষ করে তিতাসের বিতরণ এলাকায়।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদের অধিভুক্ত এলাকায় গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে অনেক এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ, অনিয়মিত সরবরাহ কিংবা নির্দিষ্ট সময়ে গ্যাস না পাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তিতাস গ্যাসের ভাষ্য অনুযায়ী, সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে আবাসিক গ্রাহকদের দৈনন্দিন রান্নার কাজে। একই সঙ্গে শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং অন্যান্য খাতেও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ও সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় আমদানিকৃত এলএনজির ভূমিকা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এলএনজি টার্মিনালে যেকোনো কারিগরি ত্রুটি বা সরবরাহ বিঘ্ন জাতীয় গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থার ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং নগরাঞ্চলের গ্যাস সরবরাহে এর প্রভাব দ্রুত অনুভূত হয়।
তিতাস গ্যাস জানিয়েছে, কারিগরি সমস্যা সমাধান করে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ততদিন পর্যন্ত গ্রাহকদের সাময়িক দুর্ভোগ মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিজ্ঞপ্তিতে সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলেও জানানো হয়েছে।

