দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন গ্রাহকদের গ্যাস-সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহনেওয়াজ পারভেজ।
বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে তিনি এ কথা বলেন। কনক্লেভটির আয়োজন করে বণিক বার্তা।
শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, বর্তমানে তিতাসের কাছে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি নতুন গ্যাস-সংযোগের আবেদন জমা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০০টিরও বেশি গ্রাহক ডিমান্ড নোট অনুযায়ী অর্থ জমা দিয়ে সংযোগের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু গ্যাসের সরবরাহ সংকটের কারণে তাদের সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি জানান, দেশের মোট গ্যাস বিতরণের প্রায় ৬০ শতাংশই তিতাসের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির আওতায় রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানাতেও গ্যাস সরবরাহ করে তিতাস। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজে কোনো গ্যাস উৎপাদন করে না; সম্পূর্ণভাবে পেট্রোবাংলার বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল।
তিতাসের এমডি বলেন, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে পাওয়া গ্যাস পেট্রোবাংলা ছয়টি বিতরণ কোম্পানির মধ্যে বরাদ্দ দেয়। সেই বরাদ্দের ওপরই তিতাসের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তিনি জানান, তিতাসের আওতাধীন ১২ থেকে ১৩টি জেলার শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে চালাতে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস প্রয়োজন। পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রাখতে অন্তত ১ হাজার ৭০০ এমএমসিএফডি গ্যাস দরকার হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ এমএমসিএফডি।
শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, সম্প্রতি একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় গ্যাস সরবরাহের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে সংকট বেশি প্রকট। প্রতিদিনই শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ আসছে। পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকদের অভিযোগও নিয়মিতভাবে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন না বাড়া কিংবা পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন গ্রাহকদের গ্যাস-সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে না।

