দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ট্রেড শো বাংলাদেশ অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল এক্সপোজিশন (বাটেক্সপো) দীর্ঘ এক যুগ পর আবারও আয়োজন করতে যাচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের টেকসই উৎপাদন, উদ্ভাবন ও সক্ষমতার বার্তা বিশ্ববাজারে তুলে ধরা হবে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শিল্পকে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরার অন্যতম প্রধান মাধ্যম বাটেক্সপো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা, ব্র্যান্ড প্রতিনিধি ও বিনিয়োগকারীরা এতে অংশ নেন।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, গত এক দশকে দেশের পোশাক খাতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, শ্রমিক অধিকার, পণ্যের বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, এবারের আয়োজনে সেগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হবে।
সবশেষ ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে বাটেক্সপোর ২৪তম আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর আর এই আয়োজন হয়নি। এক যুগের বেশি সময় পর বর্তমান নেতৃত্বের উদ্যোগে আবারও আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনী আয়োজন করছে বিজিএমইএ।
বাংলাদেশের পোশাক খাতকে বিশ্ববাজারে একটি পছন্দের গ্লোবাল সোর্সিং হাব হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই এবারের বাটেক্সপোর অন্যতম লক্ষ্য। এ আয়োজনে টেকসই উৎপাদন, সার্কুলার ইকোনমি, গ্রিন ম্যানুফ্যাকচারিং, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, শ্রমিক অধিকার এবং পণ্য উন্নয়নে উদ্ভাবনের অগ্রগতি তুলে ধরা হবে।
বুধবার বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় বাটেক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।
বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিম বলেন, এবার প্রচলিত আয়োজনের বাইরে গিয়ে গত এক দশকে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অর্জনগুলো বেশি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হবে। টেকসই উৎপাদন, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, শ্রমিক অধিকার ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাই থাকবে এবারের আয়োজনের মূল বিষয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে শুধু কম দামের পোশাক উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে নয়, বরং উচ্চমানের, নিরাপদ ও টেকসই পোশাক উৎপাদনের দেশ হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরাই বাটেক্সপোর অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, এমন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে, যারা এখনো বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পোশাক কেনেন না। এ জন্য সেপ্টেম্বর থেকে বিশেষ আমন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে প্রশ্ন উঠেছিল, তা মোকাবিলায় বাংলাদেশি পোশাক শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমিক কল্যাণ ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে বিনিয়োগ বেড়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ সংখ্যক পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা রয়েছে। শিল্পখাতের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২৮৪টি তৈরি পোশাক কারখানা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্ত সবুজ কারখানা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মধ্যে ১২১টি প্লাটিনাম, ১৪৪টি গোল্ড, ১৫টি সিলভার এবং ৪টি বেসিক পর্যায়ের সনদ অর্জন করেছে।
বাটেক্সপোতে দেশীয় পোশাক প্রস্তুতকারক, টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান, সরবরাহকারী, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা অংশ নেবেন। আয়োজকদের আশা, এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সক্ষমতা আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

