জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে, তার পেছনে কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর মতে, এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে দুটি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যে অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে, সেটি বাস্তবসম্মত নয় এবং তথ্যভিত্তিকও নয়। তাঁর ভাষ্য, এটি কার্যত নতুন কোনো শুল্ক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আগের শুল্কব্যবস্থার সময়সীমা শেষ হওয়ায় তাদের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একই মাত্রার শুল্ক নতুন কাঠামোয় বহাল রাখা হয়েছে। ফলে নাম বা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এলেও বাস্তবে বাণিজ্যিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন ঘটবে না।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখিত সম্ভাব্য খাদ্য সংকটের আশঙ্কা নিয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ইউরিয়াসহ সব ধরনের সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণও পর্যাপ্ত পরিমাণে সংরক্ষিত আছে। তাই খাদ্য উৎপাদন বা কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট দুই বিদ্যালয়ের পরিচালক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

