বিশ্ব পোশাক রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠনের সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান দাবি করেছেন, বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারকের অবস্থান দখল করেছে ভিয়েতনাম। তার মতে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থায়ন সংকট, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দেশের পোশাক খাত প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাচ্ছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যাকসেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফারুক হাসান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের পোশাক খাতকে আবারও আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত বর্তমানে নানা ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে ২০২৫ সালেও বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে দেখানো হয়েছে। ভিয়েতনাম রয়েছে কাছাকাছি অবস্থানে। এরপরও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাতটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, পোশাক উৎপাদনে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয়, ঋণের উচ্চ খরচ, নীতিগত পরিবর্তনের অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক জটিলতা দেশের রপ্তানি সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, দেশের উৎপাদনকারীরা বর্তমানে আর্থিক সংকট ও নিরাপত্তাসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি বিনা মূল্যের আমদানি (এফওসি) সুবিধা শিথিল করা এবং রপ্তানিতে মূল্য সংযোজনের বাধ্যবাধকতা আরোপের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, এসব পদক্ষেপ স্থানীয় উৎপাদনের পরিবর্তে আমদানিকে উৎসাহিত করতে পারে। দেশীয় উৎপাদকদের জন্য প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসানও পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে কঠিন সময় অতিক্রম করছে।
পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা শুল্ক বিভাগের দুর্নীতিকেও বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিপিএএমইএর সাবেক সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন মতি অভিযোগ করেন, বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, বছরে মাত্র ৫০ টন কাঁচামাল আমদানি করা ছোট ব্যবসাকেও লাইসেন্স নবায়নের জন্য বড় অঙ্কের ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। বিপিএএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ারও শুল্ক বিভাগকে ব্যবসার অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
আগামী ১ আগস্ট বিপিএএমইএর পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে শাহরিয়ারের নেতৃত্বাধীন ঐক্য পরিষদ প্যানেলে ২৫ জন পরিচালক প্রার্থী রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দীর্ঘদিন ধরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস। বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান ধরে রাখতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানো, নীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানো এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

