দেশে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার করতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বাপেক্সের জন্য দুটি আধুনিক অনুসন্ধান কূপ খনন রিগ কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, নতুন দুটি রিগ কেনার প্রস্তাব ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাপেক্সের খনন সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির এসব রিগ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাপেক্সের বহরে পাঁচটি রিগ রয়েছে। এগুলো হলো—বিজয়-১০, বিজয়-১১, বিজয়-১২, বিজয়-১৮ এবং আইপিএস-১। নতুন দুটি রিগ যুক্ত হলে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব রিগের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে সাতটিতে।
পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, এর মধ্যে ২ হাজার হর্সপাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি রিগ কেনার জন্য মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে ১ হাজার ৫০০ হর্সপাওয়ার ক্ষমতার আরেকটি রিগ সংগ্রহের জন্য বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হচ্ছে। ডিপিপি প্রস্তুত হওয়ার পর অনুমোদনের জন্য তা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে।
সরকার মনে করছে, বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং বিদ্যমান কূপগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখতে বাপেক্স বিভিন্ন উন্নয়ন কূপ, ওয়ার্কওভার ও অনুসন্ধান কূপ খননের কাজ করে আসছে।
দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্প্রতি বাপেক্সের একাধিক কূপ খনন প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পাওয়া এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে একটি মূল্যায়নসহ উন্নয়ন কূপ এবং দুটি অনুসন্ধান কূপ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বেগমগঞ্জ-৫ মূল্যায়নসহ উন্নয়ন কূপটি প্রায় ৩ হাজার ৫৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হবে। এছাড়া বেগমগঞ্জ-৬ অনুসন্ধান কূপের গভীরতা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মিটার এবং সুনেত্রা-২ অনুসন্ধান কূপের গভীরতা হবে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ মিটার।
এসব কূপে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলে পরবর্তী ধাপে পরীক্ষণ ও কূপ সম্পন্ন করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নতুন রিগ সংযোজন ও অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর মাধ্যমে দেশে গ্যাসের মজুত বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

