পদ্মা সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থার ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই টোল আদায় ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগৃহীত মোট টোলের পরিমাণ ১০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে এক হাজারের বেশি যানবাহন এই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত হওয়ায় দেশের সড়ক পরিবহন খাতে ডিজিটাল টোল ব্যবস্থার সম্প্রসারণে নতুন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৬ জুলাই পর্যন্ত ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট ১০ কোটি ৮ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। একই সময়ে ইটিসিতে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮টি।
সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টোল আদায়ে আধুনিক ও নগদবিহীন ব্যবস্থা চালুর ফলে যানবাহনের চলাচল আরও সহজ হচ্ছে। চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা না করে দ্রুত টোল পরিশোধের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি যানজট কমাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে ইটিসি ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে টোল পরিশোধ করা যাচ্ছে। ট্যাপ, বিকাশ, নগদ এবং উপায়–এর মতো মোবাইল আর্থিক সেবার পাশাপাশি ট্রাস্ট ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করেও পদ্মা সেতুর টোল পরিশোধের সুবিধা রয়েছে।
ইটিসি সুবিধা গ্রহণ করতে হলে ব্যবহারকারীকে সংশ্লিষ্ট অ্যাপের ডি-টোল অপশনে গিয়ে মোটরযানের তথ্য নিবন্ধন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ জমা রাখতে হবে। প্রথমবার মাওয়া টোল প্লাজার নিবন্ধন বুথ বা টোল বুথে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত আরএফআইডি ট্যাগ যাচাইয়ের পর নিবন্ধন সম্পন্ন হবে। এরপর অতিরিক্ত কোনো ট্যাগ ছাড়াই নির্ধারিত ইটিসি লেন ব্যবহার করে সহজেই সেতু পার হওয়া যাবে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক এবং সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের জন্য দ্রুত, সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় টোল পরিশোধ নিশ্চিত করতে সেতু কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ব্যবস্থায় ১০ কোটির বেশি টাকা আদায় এবং এক হাজারের বেশি যানবাহনের নিবন্ধন কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক এবং নগদবিহীন লেনদেনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইটিসি ব্যবস্থার ব্যবহার যত বাড়বে, টোল প্লাজায় যানজট তত কমবে, টোল আদায়ের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতুতেও এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর টোল ব্যবস্থার বিস্তার ঘটলে যাত্রীসেবা আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

