বাংলাদেশে টানা এক দশক ধরেই লোকসানের মুখে রয়েছে অনলাইন খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডা। মূল প্রতিষ্ঠান Delivery Hero–এর সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ফুডপান্ডা বাংলাদেশের চারটি ইউনিট মিলিয়ে মোট ১১০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১১১ মিলিয়ন ইউরো) লোকসান হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি কোনো বছরই লাভ করতে পারেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই ফুডপান্ডা বাংলাদেশের লোকসান ৪০ শতাংশ বেড়ে ১১ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশে ডেলিভারি হিরো চারটি ইউনিটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এগুলো হলো—ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ফুডপান্ডা বাংলাদেশ, কুইক-কমার্স সেবা প্যান্ডামার্ট, ক্লাউড কিচেন ইউনিট ডিএইচ কিচেনস এবং হোল্ডিং কোম্পানি জেড ১৩৪৩ জিএমবিএইচ অ্যান্ড কোং।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোকসান হয়েছে মূল ফুড ডেলিভারি ব্যবসায়। এ খাতে মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৭৯ দশমিক ২২ মিলিয়ন ইউরো। গত বছরই এই ইউনিটের লোকসান ৬৫ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির মোট বার্ষিক লোকসানের ৬০ শতাংশেরও বেশি।
অন্যদিকে, প্যান্ডামার্ট ২০২৫ সালে ২ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ইউরো লোকসান করেছে। ২০২০ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এ ইউনিটের মোট লোকসান বেড়ে হয়েছে ২০ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ইউরো।
ডিএইচ কিচেনস তুলনামূলকভাবে লোকসান কমাতে সক্ষম হয়েছে। গত বছর ইউনিটটির লোকসান ১৫ শতাংশ কমে ০.৩৪ মিলিয়ন ইউরোতে নেমে এলেও ২০২০ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ইউরো।
এ ছাড়া হোল্ডিং কোম্পানি জেড ১৩৪৩ গত বছর ২ দশমিক ০১ মিলিয়ন ইউরো লোকসান করেছে। ফলে ২০২১ সাল থেকে এ ইউনিটের মোট পুঞ্জীভূত লোকসান বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ইউরো।
এদিকে সম্প্রতি ডেলিভারি হিরোকে ১৩ বিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে Uber। উবার জানিয়েছে, রাইড শেয়ারিং ও ফুড ডেলিভারি সেবাকে একই প্ল্যাটফর্মে সম্প্রসারণের কৌশলের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে বাংলাদেশের বাজারে উবারের আগের অভিজ্ঞতা খুব ইতিবাচক ছিল না। ২০২০ সালের জুনে চালু করা ফুড ডেলিভারি সেবা মাত্র ১৪ মাসের মাথায় বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর সাবেক সভাপতি এ কে এম ফাহিম মাশরুর বলেন, অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে—উবার ফুডপান্ডা ব্র্যান্ড বহাল রাখতে পারে, অথবা বাংলাদেশে ব্র্যান্ডটি বন্ধও করে দিতে পারে।
তবে ফুডপান্ডা বাংলাদেশ জানিয়েছে, সম্ভাব্য অধিগ্রহণের ঘোষণার পরও তাদের কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাব্য সময় ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ, এর আগে সাংগঠনিক বা ব্র্যান্ডিং বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।

