বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি নতুন ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংরক্ষণ ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে একটি চীনা প্রতিষ্ঠান এবং এটি সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থার আওতায় এগিয়ে নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রকল্পের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন পায়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চীনের চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতায় সরকার-টু-সরকার পদ্ধতিতে প্রস্তাবটি প্রক্রিয়াকরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
একই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে এলএনজি আমদানির একটি প্রস্তাবও নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো দেশের গ্যাস সরবরাহ আরও স্থিতিশীল করা এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা পূরণে বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা।
এছাড়া সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ সময়কালে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ২১ দিন করার প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে দেশের শিল্প খাত তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাব মোকাবিলা করছে। বিশেষ করে বস্ত্র, সুতা, সিরামিক এবং সার শিল্পে গ্যাসের স্বল্প সরবরাহ ও পাইপলাইনের নিম্নচাপের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানাই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না, ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি প্রতিযোগিতাও চাপে পড়ছে।
সংকট আরও তীব্র হয়েছে গত ২১ জুলাই দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর। এর ফলে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে, যা দেশের মোট সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, মহেশখালীতে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মিত হলে আমদানিকৃত গ্যাস গ্রহণ ও সরবরাহের সক্ষমতা বাড়বে। এর ফলে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল করা, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তারা মনে করেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানো যায়।

