মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, বিশ্ববাজারে এলএনজির মূল্যবৃদ্ধি এবং আর্থিক সংকটের কারণে দেশের গ্যাস সরবরাহে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পেট্রোবাংলা সময়মতো এলএনজির বিল পরিশোধ করতে না পারলে বিদেশি সরবরাহকারীরা নতুন কার্গো পাঠাতে অনাগ্রহী হতে পারে। এতে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ বিভাগ জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে। জুলাই মাসের শেষার্ধের এলএনজি আমদানির ব্যয় মেটাতে পেট্রোবাংলার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত অর্থ ছাড়, বিকল্প এলএনজি উৎস খোঁজা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে একটি কার্গো আনতে যেখানে প্রায় ৪০০–৪৫০ কোটি টাকা লাগত, এখন স্পট মার্কেট থেকে একই পরিমাণ এলএনজি কিনতে ৬৫০–৯৫০ কোটি টাকা বা তারও বেশি ব্যয় হচ্ছে। এতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় ভর্তুকি প্রয়োজন হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান জোরদার, দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তি সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং গ্যাসের অপচয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে আইএমএফও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমিয়ে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ করে আসছে।

