বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে চলেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো পর্তুগালে চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রপ্তানি শুরু করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেনাটা লিমিটেড। ইউরোপের বাজারে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার কৌশলের অংশ হিসেবে এই রপ্তানি চালানকে প্রতিষ্ঠানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, পর্তুগালে পাঠানো প্রথম চালানে রয়েছে অ্যামান্টাডিন ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাপসুল। ওষুধটি রেনাটার রাজেন্দ্রপুরে অবস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের উত্তম উৎপাদন পদ্ধতির অনুমোদনপ্রাপ্ত সাধারণ উৎপাদন কারখানায় প্রস্তুত করা হয়েছে।
এছাড়া প্রথম চালানে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্লুড্রোকর্টিসোন শূন্য দশমিক ১ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট এবং ক্যাবারগোলিন শূন্য দশমিক ৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট। এই দুটি ওষুধ উৎপাদন করা হয়েছে কোম্পানির মিরপুরে অবস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের উত্তম উৎপাদন পদ্ধতির অনুমোদনপ্রাপ্ত বিশেষায়িত উৎপাদন কারখানায়।
রেনাটার মতে, পর্তুগালের বাজারে প্রবেশ শুধু নতুন একটি দেশে রপ্তানি শুরুর ঘটনা নয়, বরং ইউরোপীয় অঞ্চলে কোম্পানির উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে ইউরোপের আরও বিভিন্ন দেশে তাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মানসম্মত উৎপাদন সুবিধা এবং কঠোর গুণগত মান নিশ্চিত করতে পারার কারণেই বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প ধীরে ধীরে উন্নত দেশগুলোর বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের উৎপাদন মানের অনুমোদন অর্জন করা সহজ নয়। ফলে এ ধরনের অনুমোদনপ্রাপ্ত কারখানা থেকে উৎপাদিত ওষুধ বিদেশের উন্নত বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের ওষুধ খাত বর্তমানে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি শিল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও খাতটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পর্তুগালে রেনাটার এই নতুন রপ্তানি কার্যক্রম সেই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের মতো প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে সফলভাবে প্রবেশ করতে পারলে বাংলাদেশের অন্যান্য ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানও নতুন বাজার খুঁজে পেতে উৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের গ্রহণযোগ্যতা ও সুনাম আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও তারা মনে করছেন।

