গত অর্থবছর ২০২৫-২৬ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি প্রায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। রপ্তানি প্রায় স্থবির থাকার বিপরীতে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত বার্ষিক লেনদেন ভারসাম্যের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারে। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে এই ঘাটতি ছিল ২০ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি থেকে আয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামান্য কমে ৪৩ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই আয় ছিল ৪৩ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি প্রায় একই জায়গায় থাকলেও আমদানির পরিমাণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য আমদানি ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়ে ৭১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আগের অর্থবছরে আমদানি ব্যয় ছিল ৬৪ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।
শুধু পণ্য বাণিজ্য নয়, সেবা খাতেও বাংলাদেশের ঘাটতি কিছুটা বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেবা বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার।
তবে সেবা রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৬ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪ শতাংশ বেড়ে গত অর্থবছরে সেবা রপ্তানি আয় হয়েছে ৭ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে সেবা আমদানিতে ব্যয়ও বেড়েছে, যদিও বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেবা আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে ১২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ১২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।
সামগ্রিক পরিসংখ্যান বলছে, রপ্তানি আয় স্থবির থাকা এবং পণ্য আমদানির দ্রুত বৃদ্ধির কারণে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

