বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে সরাসরি বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের অন্যতম বড় শিপিং ও লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান মার্স্ক লাইন। একই সঙ্গে পুরোনো জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বা শিপ রিসাইক্লিং খাতেও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
শনিবার ঢাকায় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক বৈঠকে মার্স্কের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানানো হয়।
মন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার এবং এপি মোলার সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেনে পিল পেডারসেন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে মার্স্ককে জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি দেশের শিপ রিসাইক্লিং শিল্পেও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মার্স্কের বড় বহর রয়েছে। তাই নতুন জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো জাহাজ পরিবেশসম্মত ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ—দুই খাতেই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। আন্তর্জাতিক বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এসব খাতে বিনিয়োগ করলে দেশের শিল্পায়নের গতি বাড়ার পাশাপাশি সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) সম্ভাবনাও আরও কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
জাহাজ নির্মাণ বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোর একটি। একইভাবে শিপ রিসাইক্লিং খাতেও দেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বড় কোম্পানির সরাসরি বিনিয়োগ এলে এই দুটি খাতেই প্রযুক্তি, দক্ষতা ও পরিবেশগত মান আরও উন্নত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বৈঠকে এপি মোলার-মার্স্ক গ্রুপের ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা অঞ্চলের ব্যবসা উন্নয়ন, জননীতি ও নিয়ন্ত্রক বিষয়ক প্রধান বিবেক শর্মা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া মার্স্ক বাংলাদেশ লিমিটেডের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কান্ট্রি ডিরেক্টর খালিদ মুস্তাফিজ গাফফার এবং রয়্যাল ড্যানিশ এম্বাসির ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট ও ড্যানিডা বিজনেসবিষয়ক সিনিয়র অ্যাডভাইজার সামিনা আহসান শাহরুখও বৈঠকে অংশ নেন।
বাংলাদেশে মার্স্কের সম্ভাব্য বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে জাহাজ নির্মাণ ও রিসাইক্লিং খাতে শুধু নতুন বিনিয়োগই নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

