স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে গেলেও যুক্তরাজ্যের বাজারে এর প্রভাব খুব একটা পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক শীর্ষ কূটনীতিক। তাঁর ভাষ্যমতে, উত্তরণের পর তিন বছরের ট্রানজিশনাল সময়ে বাংলাদেশের প্রায় সব পণ্যই অর্থাৎ ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্য যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে থাকবে। এমনকি সেই ট্রানজিশনাল সময় পেরিয়ে গেলেও প্রায় ৯২ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বহাল থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এসব তথ্য জানান ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার। চেম্বার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ডেপুটি হাইকমিশনার জানান, ব্রিটিশ পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দিতে যুক্তরাজ্য সরকার ইতিমধ্যে দুই বিলিয়ন পাউন্ডের একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। এই তহবিলের মাধ্যমে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা যুক্তরাজ্যের বাজারে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ পাবেন বলে তিনি জানান। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশের নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের বিস্তারিত ধারণা দিতে শিগগির চট্টগ্রাম চেম্বারে একটি কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সাক্ষাতে চেম্বার সভাপতি চট্টগ্রামকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এ জন্য সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দরসহ সামগ্রিক অবকাঠামো খাতে আরও বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে তিনি এ ক্ষেত্রে ব্রিটিশ বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষভাবে তিনি লালদিয়া টার্মিনালের মতো বড় প্রকল্প নির্মাণ-পরিচালনা এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনায় যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ফার্মাসিউটিক্যাল, স্টিল, টেক্সটাইল ও গ্রিন এনার্জির মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার আহ্বানও জানান চেম্বার সভাপতি। তাঁর মতে, এসব খাতে বিনিয়োগ এলে শুধু বাংলাদেশের বাজার নয়, এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারেও প্রবেশের নতুন পথ তৈরি হবে।
বৈঠকে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক নেতৃবৃন্দ, বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতিসহ চেম্বারের কর্মকর্তারা এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত পরিচালকও উপস্থিত ছিলেন।

