বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রপ্তানি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
মঙ্গলবার ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আসেন। এই বৈঠকেই গভর্নর ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার ও রপ্তানি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে দুই দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য-সংক্রান্ত নানা বিষয়ে খোলামেলা মতবিনিময় হয়। এর পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসে বাংলাদেশের নিজস্ব ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা বাংলা কিউআরের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল লেনদেনের বিষয়টিও। এ ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য কারিগরি সহায়তা কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন গভর্নর।
সাক্ষাতে ভারতের হাইকমিশনার বিদেশি বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেন। জবাবে গভর্নর জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে একাধিক নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাঁদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ও অর্জিত মুনাফা এখন অপেক্ষাকৃত সহজে নিজ দেশে ফেরত নিতে পারবেন। এ সময় তিনি প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও শিল্প খাতে আরও বেশি ভারতীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার আহ্বানও জানান।
বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার ও অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক বিষয়ক এক কর্মকর্তা। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে গভর্নরের সঙ্গে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের দুজন ডেপুটি গভর্নর।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হলে শুধু আমদানি নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ভারতীয় বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয়। ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার সমন্বয় এবং বিনিয়োগ সহজীকরণের এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে তা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

