জ্বালানি সংকটের চাপ সামলাতে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা এখন শিল্পকারখানার জন্য নতুন নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে। পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে গেলে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস সংগ্রহ করে কাভার্ড ভ্যানে করে কারখানায় নিয়ে যাচ্ছে। আইন অনুযায়ী এভাবে সিলিন্ডারে ভরা সিএনজি শিল্পকারখানায় পরিবহন ও ব্যবহার অনুমোদিত নয়। তবু দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যেই চলছে এমন কার্যক্রম। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটে এর ব্যাপ্তি আরও বেড়েছে।
আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের কারখানা চত্বরে রোববার রাতে সিলিন্ডারবাহী একটি কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণের ঘটনা এই ঝুঁকিকে নতুন করে সামনে এনেছে। ভয়াবহ ওই ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন। বিস্ফোরণের পর সিলিন্ডারবাহী গাড়িসহ আশপাশের পাঁচ থেকে ছয়টি যানবাহনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার বয়লার চালানোর জন্য ওই গ্যাস আনা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি শুধু একটি কারখানার দুর্ঘটনা হিসেবে দেখলে এর গভীরতর কারণগুলো আড়ালে থেকে যেতে পারে। কারণ, শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেলে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রপ্তানিমুখী কারখানায় সময়মতো উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করার চাপও থাকে। এই বাস্তবতায় কিছু প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডারে সিএনজি সংগ্রহ করছে। ফলে একদিকে উৎপাদন সচল রাখার তাগিদ, অন্যদিকে নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষার ঝুঁকি—দুইয়ের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক ভারসাম্যহীনতা।
গ্যাস আইন–২০১০ এবং গ্যাস বিতরণ বিধিমালা–২০১৬ অনুযায়ী এ ধরনের ব্যবস্থায় সিএনজি পরিবহন অনুমোদিত নয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসন ও কিছু সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকের কার্যত নীরব সম্মতির সুযোগে এই ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি শ্রেণিও সক্রিয় হয়েছে। তারা ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে শিল্পকারখানায় পৌঁছে দিচ্ছে। প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বা তারও বেশি অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে সংকটের সুযোগ নিয়ে একদিকে শিল্পকারখানার ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে একটি অনিয়ন্ত্রিত সরবরাহব্যবস্থাও তৈরি হচ্ছে।
এ ধরনের পরিবহনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো নিরাপত্তা। একটি কাভার্ড ভ্যানে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার বহন করা হচ্ছে। এসব সিলিন্ডারের মান, মেয়াদ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিবহনের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানার মতো ঘনবসতিপূর্ণ বা কর্মীসমৃদ্ধ এলাকায় বিপুল পরিমাণ সংকুচিত গ্যাস নিয়ে যানবাহন প্রবেশ করলে সামান্য ত্রুটিও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
আশুলিয়ার ঘটনাস্থনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নয়টি সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যান দেখতে পান। প্রত্যেকটিতে আনুমানিক ৯০ থেকে ১০০টি করে সিলিন্ডার ছিল। বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলে ১০ থেকে ১২টি এমন গাড়ি ছিল বলে জানা গেছে। পরে কয়েকটি গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়। অর্থাৎ একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চত্বরে একই সময়ে বিপুল পরিমাণ সংকুচিত গ্যাস মজুত বা পরিবহন করা হচ্ছিল। এত বড় পরিমাণ দাহ্য জ্বালানি কীভাবে, কোন নিয়মে এবং কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে কারখানায় প্রবেশ করল, এখন সেটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ঘটনার পর আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। কারখানা থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি খাবারের দোকানের ভেতর একটি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। সিলিন্ডটির গায়ে খোদাই করা ছিল, ‘অ্যাপ্রোভড পিআরডি সিএনজি অনলি, ডু নট ইউজ আফটার ২০২১’। অর্থাৎ সেটির ব্যবহার মেয়াদ ২০২১ সালের পর শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। যদি শিল্পকারখানায় সত্যিই মেয়াদোত্তীর্ণ বা অনুপযুক্ত সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে তা শুধু নিয়ম ভঙ্গ নয়, কর্মী ও আশপাশের মানুষের জীবনকে সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে ফেলার বিষয়।
একজন সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আইনগত নিষেধাজ্ঞার কারণে কারখানায় সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। তাদের কেউ কেউ ফিলিং স্টেশনে নিম্নমানের সিলিন্ডার নিয়ে গ্যাস সংগ্রহ করে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এখানে শিল্পকারখানার মালিকদের দায়ের প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। গ্যাসের সংকটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়, শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় এবং রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়নেও সমস্যা তৈরি হয়—এগুলো বাস্তবতা। কিন্তু উৎপাদন সচল রাখার জন্য এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না, যার ফলে শ্রমিক, চালক, কারখানার কর্মচারী এবং আশপাশের সাধারণ মানুষ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েন। শিল্প নিরাপত্তার ন্যূনতম মান বজায় রাখা মালিকপক্ষের দায়িত্বের অংশ।
তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, গ্যাস সংকটের কারণে আগে থেকেই কিছু কারখানায় সিলিন্ডারে গ্যাস নেওয়ার প্রবণতা ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তা বেড়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি। তবে কার্যক্রমটি শক্তভাবে বন্ধও করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে সিলিন্ডার ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে মালিকদের চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, সংকটের সময় এলপিজি সরবরাহের ব্যবস্থা করা গেলে শিল্পকারখানার জন্য একটি বিকল্প তৈরি হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে শিল্পে পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ বাড়ানোর ওপরই গুরুত্ব দিতে হবে।
গ্যাস সংকটের সময় বিকল্প জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা যে বাস্তব, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থারও নির্দিষ্ট নিরাপত্তা মান থাকতে হবে। কোন ধরনের সিলিন্ডার ব্যবহার করা যাবে, কীভাবে পরীক্ষা করা হবে, কত পরিমাণ সিলিন্ডার একটি গাড়িতে পরিবহন করা যাবে, কোন পথে গাড়ি চলবে, কারখানায় কোথায় তা রাখা যাবে এবং ব্যবহারের আগে কে পরীক্ষা করবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নিয়ম না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
গত জুলাইয়ে গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ার পর বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানায় সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির কাছে চিঠি দিয়েছিল। ওই সমিতি নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পেট্রোবাংলার কাছে নির্দেশনা চায়। কিন্তু পেট্রোবাংলা এ বিষয়ে কোনো অনুমোদন বা নির্দেশনা দেয়নি। তারপরও বাস্তবে শিল্পকারখানায় সিলিন্ডারে করে গ্যাস পৌঁছানো বন্ধ হয়নি।
এই পরিস্থিতি নীতিনির্ধারণের একটি বড় দুর্বলতাও তুলে ধরে। কোনো একটি কার্যক্রম আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ হলে সেটি বাস্তবে কেন বন্ধ হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। আবার শিল্পমালিকদের যদি সংকটের কারণে বিকল্প জ্বালানির প্রয়োজন হয়, তাহলে শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার সমাধানও সম্ভব নয়। নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি না হলে অনানুষ্ঠানিক ও ঝুঁকিপূর্ণ বাজার আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির মহাসচিব ফারহান নূর মনে করেন, শিল্পকারখানায় ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে একটি নীতিমালা করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাপের মুখে শিল্পকারখানার জন্য সিলিন্ডারে গ্যাস দিতে বাধ্য হচ্ছে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দুর্বলতার বিষয়টিও সামনে আসে।
অন্যদিকে শ্রমিকনেতারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনাকে শুধু দুর্ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। সিলিন্ডার পরিবহন, সংরক্ষণ কিংবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙা বা অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা দরকার। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ শিল্পদুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় শ্রমিকদেরই।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে করে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহের অনুমতি কখনো দেওয়া হয়নি। তবে সংকটের সময় অনেক শিল্পকারখানা এভাবে গ্যাস সংগ্রহ করে—এমন অভিযোগ তাঁদের কাছে রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে অভিযানও চালানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অজানা নয়। প্রশ্ন হলো, অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার পরও যদি একই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে, তাহলে নজরদারি ও প্রয়োগব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি রয়েছে।
গ্যাস সংকটের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। টানা প্রায় দুই মাসের সংকটের পর গত সপ্তাহে সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। তারপরও আশুলিয়ার কারখানায় সিলিন্ডারে করে গ্যাস পৌঁছানোর ঘটনা দেখিয়েছে, শুধু সরবরাহ বাড়ালেই সমস্যার পুরো সমাধান হচ্ছে না। সংকটের সময় যে বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, সেটি এখন একটি আলাদা ঝুঁকির উৎসে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে গ্যাসের চাপ কমে গেলে এই অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা আবারও বড় আকার নিতে পারে।
শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তৈরি পোশাক, বস্ত্র, সিরামিকসহ নানা শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। এর প্রভাব পড়ে কর্মসংস্থান, রপ্তানি এবং সামগ্রিক শিল্প উৎপাদনে। কিন্তু উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষার নামে যদি অনিরাপদ জ্বালানি পরিবহনকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়, তাহলে একপর্যায়ে দুর্ঘটনার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি উৎপাদন বন্ধের ক্ষতির চেয়েও বড় হয়ে উঠতে পারে।
এ কারণে এখন প্রয়োজন সমস্যাটিকে শুধু গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি হিসেবে না দেখে শিল্পনিরাপত্তার দৃষ্টিতেও দেখা। প্রথমত, কোন প্রতিষ্ঠান কীভাবে বিকল্প গ্যাস সংগ্রহ করছে তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, ব্যবহৃত প্রতিটি সিলিন্ডারের মান ও মেয়াদ যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তৃতীয়ত, অনুমোদনহীন পরিবহন বন্ধে ফিলিং স্টেশন, পরিবহনকারী ও শিল্পকারখানা—তিন পক্ষের ওপরই কার্যকর নজরদারি দরকার। চতুর্থত, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে এই ব্যবসা পরিচালিত হলে তাদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
একই সঙ্গে শিল্পকারখানার জন্য নিরাপদ বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের নীতিও জরুরি। সংকটের সময়ে কারখানাগুলোকে এমন একটি বৈধ ও নিরাপদ পথ দিতে হবে, যাতে তারা উৎপাদন সচল রাখতে গিয়ে বেআইনি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল না হয়। এলপিজি বা অন্য কোনো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ থাকলে তার জন্যও সুস্পষ্ট মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবিধি নির্ধারণ করতে হবে।
আশুলিয়ার বিস্ফোরণে সাতটি প্রাণ ঝরে যাওয়ার পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এই মৃত্যু কি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে থেকে যাবে, নাকি শিল্পে গ্যাস পরিবহনের পুরো ব্যবস্থাটি নতুন করে পরীক্ষা করা হবে? সংকটের সময় নিয়ম শিথিল করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থা চালু রাখার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সেটি দীর্ঘমেয়াদে শিল্প নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। শিল্পের উৎপাদন যেমন প্রয়োজন, তেমনি সেই উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত মানুষের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
গ্যাসের চাপ কমে গেলে কারখানা যেন বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নেয়—এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া যেমন কাম্য নয়, তেমনি নিষিদ্ধ পথে গ্যাস সরবরাহ করে লাভবান হওয়ার সুযোগও বন্ধ করা দরকার। আশুলিয়ার ঘটনা তাই শুধু একটি বিস্ফোরণের তদন্তের বিষয় নয়; এটি শিল্পে জ্বালানি সরবরাহ, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং শ্রমিক নিরাপত্তার সমন্বিত সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে তখনই, যখন শিল্পে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থাকেও আইনসম্মত, স্বচ্ছ ও নিরাপদ কাঠামোর মধ্যে আনা যাবে।

