দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে অপ্রচলিত বাজারগুলোর গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসে এসব বাজারে রপ্তানি পৌঁছেছে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা একক মাসের হিসাবে এখন পর্যন্ত এই খাতে সর্বোচ্চ পরিমাণ।
গত দুই বছর ধরে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে খুব একটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকলেও চলতি অর্থবছরে সেই চিত্র বদলে গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বলছে, আগস্টের রেকর্ড রপ্তানির পাশাপাশি এসব বাজারে রপ্তানির মাসিক গড় হারও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। আগের অর্থবছরে যেখানে মাসিক গড় রপ্তানি ছিল প্রায় ৫৭৪ মিলিয়ন ডলার, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬১২ মিলিয়ন ডলার।
মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের অংশও এর ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের অর্থবছরে মোট রপ্তানির প্রায় ১৬ শতাংশ আসত এই বাজারগুলো থেকে, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ষোলো শতাংশে।
এই খাত সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনে করেন, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সম্প্রসারণের বিপুল সুযোগ রয়েছে, যা এতদিন যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। তার মতে, এখন সময় এসেছে এই বাজারগুলোর দিকে কৌশলগত গুরুত্ব দেওয়ার। তিনি ব্যাখ্যা করেন, অপ্রচলিত বাজার বলতে শুধু উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজার বোঝায় না—এসব দেশে বিভিন্ন ধরনের পোশাকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং সম্মিলিতভাবে এই বাজারগুলোর আকার শত শত বিলিয়ন ডলারের। তাই ঐতিহ্যবাহী বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এই নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট মাসে অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপান ছিল বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য, যেখানে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ১১৯ মিলিয়ন ডলারের পোশাক। এরপরের অবস্থানে ছিল অস্ট্রেলিয়া প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলার, ভারত প্রায় ৭৩ মিলিয়ন ডলার, তুরস্ক প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার নিয়ে।
এছাড়া মেক্সিকো, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ব্রাজিল, চীন ও সৌদি আরবেও পোশাক রপ্তানি হয়েছে বিশ থেকে তেত্রিশ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে। মালয়েশিয়া, চিলি, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো বাজারগুলোতেও রপ্তানির পরিমাণ ছিল আট থেকে ষোলো মিলিয়ন ডলারের মধ্যে। এই তালিকার বাইরে অন্যান্য অপ্রচলিত বাজারে মিলিয়ে আরও প্রায় ৮৫ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে।
সার্বিকভাবে আগস্টে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ হাজার ৬০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে অপ্রচলিত বাজারের অংশই ছিল রেকর্ড পরিমাণ ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলার। এই পরিসংখ্যান নতুন বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে আরও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি গন্তব্যে এই বৈচিত্র্য আনার প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি নতুন বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের উপস্থিতি আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করছে। আগস্টের এই রেকর্ড রপ্তানি এবং অপ্রচলিত বাজারের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ সামগ্রিকভাবে দেশের রপ্তানি খাতের বাজার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

