বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে না যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের নতুন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশসহ আরও ১৯টি দেশের নির্দিষ্ট শ্রেণির বিশেষায়িত ওষুধ আমদানিতে শুল্ক ছাড় কার্যকর হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২ এপ্রিলের ঘোষণার পর আমদানি করা পেটেন্ট ওষুধ, জৈব ওষুধ এবং সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর বিশেষ শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দেশটির নিজস্ব ওষুধ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেই ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া কিছু নির্দিষ্ট ধরনের বিশেষায়িত ওষুধ এই অতিরিক্ত শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।
এই সুবিধা সব ধরনের ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। শুধুমাত্র নির্ধারিত কিছু বিশেষায়িত ওষুধ ও চিকিৎসা উপাদানের ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে।
শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় রয়েছে বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, পারমাণবিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, রক্তরস থেকে তৈরি চিকিৎসা পণ্য, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার ওষুধ, কোষ ও জিনভিত্তিক চিকিৎসা পণ্য, অ্যান্টিবডি-ভিত্তিক বিশেষ ওষুধ, রাসায়নিক, জৈব ও পারমাণবিক জরুরি চিকিৎসা উপাদান এবং প্রাণীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু পণ্য।
বাংলাদেশ ছাড়াও আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনাম এই সুবিধার আওতায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব দেশ ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় রয়েছে অথবা যেসব দেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের শুল্ক সমন্বয়ের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
তবে সাধারণ জেনেরিক ওষুধ এবং এর সংশ্লিষ্ট উপাদান আগের মতোই বিশেষ শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ।
এ ছাড়া নতুন সিদ্ধান্তে জেনেরিক ওষুধের সংজ্ঞায় কিছু সংশোধন আনা হয়েছে। এতে পেটেন্টবিহীন প্রাণী চিকিৎসার ওষুধ এবং কিছু নির্দিষ্ট ওষুধজাত পণ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বড় ওষুধের বাজার হওয়ায় নির্দিষ্ট পণ্যে এই শুল্ক সুবিধা রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
তবে সুবিধাটি কাজে লাগাতে হলে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষায়িত ওষুধ উৎপাদন বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হবে।

