রেস্তোরাঁ চালু ও পরিচালনা করতে এখন ১০ থেকে ১২টি আলাদা দপ্তরের অনুমোদন নিতে হয়। এই জটিল প্রক্রিয়া সহজ করতে এক জায়গা থেকে সব অনুমোদন পাওয়ার ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা। ব্যবসায়িক খরচ ও আইনি জটিলতা কমানোর লক্ষ্যে গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে ৯ দফা দাবি তুলে ধরেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
সমিতির ভাষ্য, কার্যকর ওয়ান-স্টপ সার্ভিস বা একক সেবাকেন্দ্রের দাবি তারা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কোনো সরকারই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল এই প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ীদের হয়রানি বাড়ছে। একই সঙ্গে সরকারি নজরদারিও ঠিকমতো করা যাচ্ছে না বলে সমিতির অভিমত। এ কারণে খাতটিকে বিজিএমইএর আদলে একটি সমন্বিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নসহ বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল করার সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানান নেতারা। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার লাইসেন্সিং সেবাগুলোকে কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ সেবা কাঠামোর আওতায় আনার সিদ্ধান্তকেও তাঁরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে সমিতি জানায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) রেস্তোরাঁ মালিকদের ওপর নতুন করে আরেকটি লাইসেন্সিং শর্ত আরোপ করেছে।
সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, মাছ, মাংস, ভোজ্যতেল ও শাকসবজির দাম বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, এলপিজি ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। ফলে রেস্তোরাঁ পরিচালনার ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। তাঁর দাবি, খরচ বাড়লেও গ্রাহক হারানোর ভয়ে খাবারের দাম সেই হারে বাড়ানো যাচ্ছে না। এর ফলে বর্তমানে বিক্রি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও যৌক্তিক দাম নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সমিতি।
সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ‘অহেতুক’ জরিমানা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা বন্ধের দাবিও তোলা হয়েছে। অভিযানের সময় রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত রাখার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
ভ্যাট নিয়ে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে সমিতি বলেছে, কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ, ভয়ভীতি, চাপ প্রয়োগ বা অবৈধ অর্থ দাবি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ভ্যাটসংক্রান্ত কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তা বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী নোটিশ, শুনানি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করতে হবে। মাঠপর্যায়ে ভ্যাট কার্যক্রম স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ব্যবসাবান্ধব করার আহ্বান জানিয়েছে সমিতি। যেসব কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও করা হয়েছে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে রেস্তোরাঁ শিল্পকে স্বতন্ত্র শিল্পখাত ঘোষণার সময় যেসব কর ও ভ্যাট সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। দেশের বাজারে মাংসের উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকারি তত্ত্বাবধানে গরুর মাংস আমদানির অনুমতিও চেয়েছে সমিতি। এ ছাড়া চাঁদাবাজি এবং ব্যবসায়ীদের ওপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি বন্ধের দাবিও করা হয়েছে।
খাতটিকে এগিয়ে নিতে সরকারি ভর্তুকিতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু, বিশেষায়িত হসপিটালিটি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা এবং কর্মীদের জন্য প্রণোদনার দাবিও জানিয়েছে সমিতি। তাদের লক্ষ্য, বাংলাদেশি খাবারকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।সমিতির নেতারা সতর্ক করে বলেন, এসব দাবি না মানলে সারা দেশে বড় পরিসরে রেস্তোরাঁ বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

