দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বেচাকেনার সুযোগ বাড়াতে দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানিয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট, অর্থনৈতিক চাপ এবং কমে যাওয়া বেচাকেনার কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। উৎসবের মৌসুমে দোকান খোলার সময় বাড়ানো হলে তারা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি জানিয়েছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে সারাদেশের দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের স্বার্থে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এই সিদ্ধান্ত মেনে আসছেন। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও জ্বালানি সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দোকানপাটে স্বাভাবিক বেচাকেনা হচ্ছে না। এতে অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদ ও দুর্গাপূজার মতো উৎসবের সময় সাধারণত মানুষের কেনাকাটা বাড়ে। এ সময় দোকান খোলা রাখার সময় কিছুটা বাড়ানো গেলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত বিক্রির সুযোগ পাবেন। বর্তমানে লোডশেডিং পরিস্থিতিও আগের তুলনায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করে ব্যবসায়ীরা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হোক। তাদের মতে, এই সময়সীমা বৃদ্ধি করলে একদিকে যেমন উৎসবকেন্দ্রিক বেচাকেনা বাড়বে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ক্ষতির মুখে থাকা ব্যবসায়ীরা কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পাবেন।
দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার পর সরকার কয়েক দফায় দোকানপাট বন্ধের সময় নির্ধারণ করে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার পর জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হলে গত এপ্রিলে দোকান ও বিপণিবিতান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির পর সময় কিছুটা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করা হয়।
এরপর কোরবানির ঈদের আগে বিশেষ বিবেচনায় দোকান খোলার সময়সীমা শিথিল করা হয়েছিল। সর্বশেষ গত ১২ আগস্ট সরকার নতুন নির্দেশনা দিয়ে দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের বর্তমান দাবি মূলত উৎসবকেন্দ্রিক হলেও এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ। জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং ক্রেতাদের ব্যয় কমে যাওয়ার কারণে অনেক দোকানদার আগের মতো বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে দুর্গাপূজার মতো বড় উৎসবের সময় অতিরিক্ত কয়েক ঘণ্টা ব্যবসার সুযোগ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে দোকান খোলার সময় বাড়ানোর ক্ষেত্রে জ্বালানি ব্যবহার, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। ব্যবসায়ীদের দাবি পূরণ হলে তা একদিকে যেমন বাজারে গতি আনতে পারে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো—জ্বালানি সাশ্রয় ও ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। উৎসবের মৌসুমে ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি সময়ের অনুমতি সেই ভারসাম্যের একটি পরীক্ষাও হতে পারে।

