দেশে নতুন ব্যবসা নিবন্ধনের পর মূল কার্যক্রম চালু করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন লাইসেন্স, অনুমোদন ও ছাড়পত্র পেতে আগে যেখানে গড়ে ৩৫৫ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেত, তা এবার মাত্র ১৪ দিনে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। এজন্য ব্যবসায়ীদের একটি একক ‘ইউনিক বিজনেস আইডি’ প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে একটি মাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবেদন করেই সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। জাতীয় দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের (টিবিএস) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ যৌথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই সংস্কারমূলক কাজ শুরু করেছে। ব্যবসা ও বিনিয়োগ সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে সিঙ্গেল-উইন্ডো প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাবিজ’ এর জন্য ‘১৪ দিনের বিজনেস রেডিনেস প্যাকেজ’ তৈরি করা হচ্ছে।
বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের পর ফায়ার ও পরিবেশ ছাড়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স, টিন নম্বর ও ব্যাংক হিসাব খুলতে একাধিক দফতরে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়। বিশেষ করে কাঁচামাল বা যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ইম্পোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট এবং এলসি খোলা পর্যন্ত এই পুরো প্রক্রিয়ায় ১৮০ থেকে ৩৫৫ দিন লেগে যায়। ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি টিবিএসকে জানান, কমপ্লায়েন্স বা নিয়মকানুন বাদ না দিয়ে বিদ্যমান শর্তগুলোর মধ্যে কিছু শর্ত শিথিল, পরবর্তী সময়ে পূরণযোগ্য অথবা সমান্তরালভাবে করার মাধ্যমেই সময় ১৪ দিনে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া সহজ করার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান ও ডিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নীতি বা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেই আসল সফলতা নির্ভর করবে। ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ডের মতো দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এটি দ্রুত কার্যকর করার তাগিদ দেন তিনি।
একইসঙ্গে তিনি পুরনো ধারার ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা পুরোপুরি বিলুপ্ত করে একক বিজনেস আইডি প্রবর্তনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “আজকের দিনে যেখানে বাংলাদেশে বসে বিদেশে কোম্পানি খোলা যায়, সেখানে নিজের দেশে ব্যবসা শুরু করতে কেন দীর্ঘ সময় লাগবে?”
ইনভেস্ট বাংলাদেশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপের এই অটোমেশন প্রক্রিয়ার পর খাতভিত্তিক লাইসেন্স সহজীকরণে কাজ করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে প্রাথমিক কিছু সুফল এবং পরবর্তী ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে মূল অংশ বাস্তবায়ন করে আগামী এক বছরের মধ্যে পুরো ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

