পোল্যান্ডভিত্তিক ফ্যাশন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এলপিপি বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এক দশক আগে বাংলাদেশের প্রায় ১০০টি পোশাক কারখানার সঙ্গে কাজ করলেও এখন তাদের সরবরাহকারীর সংখ্যা ৩৫০ ছাড়িয়েছে। এসব কারখানার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক চুক্তির মূল্য প্রায় ৭৫ কোটি মার্কিন ডলার।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সরবরাহকারী কারখানাগুলোর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশের প্রধান ক্রেতা এলপিপি। অর্থাৎ বেশ কিছু কারখানার ব্যবসার বড় অংশ এই একটি ক্রেতার ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ৪৭টি বাজারে ৪ হাজারের বেশি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে কার্যক্রম চালাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক কেনার দিক থেকে তাদের অবস্থান অষ্টম।
প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়বিষয়ক পরিচালক (পারচেজিং ডিরেক্টর) জোয়ানা সিকোরস্কা বলেন, বাংলাদেশে তাদের প্রবৃদ্ধি সবসময় সরবরাহকারীদের উন্নয়নের সঙ্গে সমান তালে এগিয়েছে। এলপিপির ব্যবসা বাড়ায় তারা আরও বড় ও বৈচিত্র্যময় অর্ডার দিতে পেরেছে। একই সময়ে অংশীদার কারখানাগুলোও নতুন প্রযুক্তি, দক্ষতা ও উৎপাদন সক্ষমতায় বিনিয়োগ করেছে। ফলে দুই পক্ষ একসঙ্গে এগোতে পেরেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এলপিপি যখন বাংলাদেশে কাজ শুরু করে, তখন প্রতিষ্ঠানটি আজকের অবস্থানে ছিল না। দেশের পোশাকশিল্পের চিত্রও ছিল ভিন্ন। সময়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক বাজারে বিস্তার ঘটিয়েছে, আর বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান পোশাক উৎপাদনকেন্দ্র।
জোয়ানা সিকোরস্কা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বাজার ও অনেক সরবরাহকারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। তাঁর ভাষ্য, ছোট কারখানা বড় ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যেখানে এখন হাজার হাজার মানুষ কাজ করছেন। আবার অপেক্ষাকৃত ছোট অর্ডার দিয়ে শুরু হওয়া সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, এই আস্থা এক দিনে তৈরি হয় না, বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, এলপিপির প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এখানকার অংশীদারদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক নিয়ে তারা গর্বিত। সরবরাহকারীদের তারা শুধু উৎপাদনকারী নয়, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে দেখে। এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে বাংলাদেশ ও পোল্যান্ড, দুই দেশের জন্যই দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা তৈরি করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
এই ঘোষণা বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। বিশ্ববাজারে ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে অনিশ্চয়তার সময়ে একটি ইউরোপীয় ক্রেতার দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার কারখানা মালিকদের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগে আস্থা দিতে পারে। বিশেষ করে সরবরাহকারীর সংখ্যা এক দশকে সাড়ে তিন গুণ হওয়া দেখায়, বাংলাদেশ থেকে কেনাকাটা তাদের কাছে কৌশলগত গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে মনে রাখার মতো কিছু বিষয়ও আছে। এসব তথ্য প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সংবাদ বিজ্ঞপ্তিনির্ভর। স্বাধীন সূত্রে সংখ্যাগুলো যাচাই করা হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবসা কতটা, কত সময়ের মধ্যে এবং কোন কোন পণ্যে বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য বা সময়সীমা জানানো হয়নি। নতুন বিনিয়োগ বা অর্ডারের পরিমাণ নিয়েও কিছু বলা হয়নি। প্রতিশ্রুতিটি ‘পুনর্ব্যক্ত’ করা হয়েছে, অর্থাৎ এটি আগের অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি, নতুন কোনো বড় ঘোষণা নয়।
আবার ৩০ শতাংশ কারখানার প্রধান ক্রেতা একটি প্রতিষ্ঠান হলে ঝুঁকির দিকটিও থাকে। ক্রেতা অর্ডার কমালে বা সরবরাহ শৃঙ্খলে পরিবর্তন আনলে এসব কারখানা বড় চাপে পড়তে পারে। তাই কারখানা মালিকদের জন্য ক্রেতার বৈচিত্র্য বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।
এখন নজর থাকবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবে অর্ডার ও সরবরাহকারীর সংখ্যায় কীভাবে প্রতিফলিত হয়, সেদিকে। একই সঙ্গে কারখানার কর্মপরিবেশ, মূল্য নির্ধারণ ও সময়মতো সরবরাহের মতো বিষয়ে অংশীদারত্ব কতটা সুষম থাকে, সেটিও দেখার বিষয়।

