পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামার গতি বাড়াতে যুক্ত হয়েছে ৫টি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ভারী যন্ত্রপাতি বা ক্রেন। পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য এই সরঞ্জামগুলো নিয়ে আসা চিনের পতাকাবাহী বহুল প্রতীক্ষিত মাদার ভেসেল ‘ফান ঝোউ-৬’ (Fan Zhou-6) বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে সরাসরি বন্দরের প্রথম টার্মিনাল জেটিতে নোঙর করে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বিরতির পর সরাসরি কোনো মাদার ভেসেল পায়রা বন্দরের জেটিতে ভিড়ল, যা বন্দরের পরিচালন সক্ষমতা বাড়াতে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বন্দরে যুক্ত হওয়া নতুন যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে ৮০ টন সক্ষমতার ২টি ‘শিপ-টু-শোর’ (STS) ক্রেন, ৪০ টন সক্ষমতার ২টি ‘রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি’ (RTG) ক্রেন এবং ৮০ টন ক্ষমতার ১টি ‘মোবাইল হারবার ক্রেন’ (MHC)। চিনের শীর্ষস্থানীয় যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘নানজিং পোর্ট অ্যান্ড হারবার মেশিনারি কোম্পানি’ (NPHMC) এবং ‘জুঝৌ কনস্ট্রাকশন মেশিনারি গ্রুপ’ (XCMG) এই ইকুইপমেন্টগুলো তৈরি করেছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান জানান, শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেনগুলো সরাসরি মাদার ভেসেল থেকে জেটিতে কনটেইনার ওঠানামার কাজে ব্যবহার করা হবে। রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেনগুলো ইয়ার্ডের ভেতরে ট্রেইলারে কনটেইনার তোলা ও সাজিয়ে রাখার কাজে ব্যবহৃত হবে। এছাড়া মোবাইল হারবার ক্রেনটি (এমএইচসি) বাল্ক কার্গো বা খোলা পণ্য এবং কনটেইনার উভয় ধরনের পণ্য দ্রুত খালাসে বহুমুখী সহায়তা দেবে।
১৭০ মিটার দীর্ঘ ‘ফান ঝোউ-৬’ জাহাজটি গত ১৮ সেপ্টেম্বর চিনের পিংতান বন্দর থেকে পায়রা বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। প্রায় ৬ মিটার ড্রাফট সম্পন্ন এই জাহাজটির সফলভাবে জেটিতে নোঙর করার বিষয়ে পায়রা বন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন এস এম শরিফুর রহমান জানান, সঠিক সময়ে ড্রেজিং ও আধুনিক নেভিগেশনাল সুবিধা বজায় রাখায় জাহাজটি নিরাপদে পৌঁছাতে পেরেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে আরও উন্নত করা সম্ভব হলে আরও বেশি ড্রাফটের ও বড় আকৃতির বড় মাদার ভেসেল সরাসরি জেটিতে নোঙর করতে পারবে। এর আগে এই টার্মিনালে কেবল দুটি মাদার ভেসেল ভিড়েছিল—যার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৫ মে পাথর নিয়ে ‘এমভি জেইন’ এবং একই বছরের ১ নভেম্বর পাথর নিয়ে ‘এমভি দা হং-১৬’ নোঙর করেছিল।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই নতুন ৫টি সর্বাধুনিক ক্রেন সংযোজনের ফলে বন্দরের ৬৫০ মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস বার্থ এখন পূর্ণাঙ্গ পরিচালন সক্ষমতা অর্জন করেছে। এর ফলে জেটিতে জাহাজ অবস্থানের সময় অনেক কমে আসবে এবং সামগ্রিক পণ্য খালাসের গতি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও জানান, আমদানিকৃত গাড়ি রাখার জন্য ডেডিকেটেড ইয়ার্ডও ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এই সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে রাবনাবাদ চ্যানেলের স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় নাব্যতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি জোর দেন।

