চট্টগ্রাম বন্দরকে দীর্ঘদিনের পণ্যজট থেকে মুক্ত করতে কঠোর অবস্থানে গেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ১৯৯৩ সালে নিলাম হওয়ার পরও নানা কারণে খালাস না হওয়া পণ্যসহ দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা মালামাল খালাসের নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে ক্রেতা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ পণ্য না নেওয়ায় এবার এসব চালান চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এসব চালান খালাসের সময় দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খালাস করতে ব্যর্থ হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। গতকাল বুধবার, ৭ অক্টোবর ছিল এই সময়সীমার শেষ দিন। কাস্টমসের নিলাম বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার (নিলাম) নাজমুল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, বন্দরে ঠিক কী পরিমাণ পণ্য পড়ে আছে, তা এখনো নির্ণয় করা হয়নি। তবে কর্মকর্তারা মূল্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, ১৯৯৩ সালে নিলাম হওয়া পণ্যের চালানও এখনো নিষ্পত্তি না হয়ে বন্দরের ইয়ার্ডে পড়ে আছে। ওই নিলামে পণ্য পাওয়া ব্যবসায়ীর পে-অর্ডার এখনো কাস্টম হাউসে জমা রয়েছে। বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
কাস্টমস সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো বৈধ দাবি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন না করলে সংশ্লিষ্ট পণ্য নিয়ে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম শুরু হবে। ফলে আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর জন্য এই সময়সীমা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম বিভাগ একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে নিলামকৃত ও নিলামযোগ্য পণ্যচালানের বিষয়ে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, শিপিং লাইন বা এজেন্ট, কাস্টমস ট্রেডারসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র জমা দিয়ে পণ্য খালাসের অনুরোধ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস না হলে এবং কোনো পক্ষ বৈধ দাবি, স্বত্ব, আপত্তি বা আদালতের আদেশ যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে না পারলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে পণ্য পুনরায় নিলাম, ধ্বংস কিংবা অন্য কোনো আইনানুগ নিষ্পত্তির কার্যক্রম থাকতে পারে।
কাস্টমসের কর্মকর্তারা জানান, বন্দরের ইয়ার্ড, শেড ও সংরক্ষণাগারে দীর্ঘদিন পণ্য পড়ে থাকায় জায়গার ওপর চাপ বাড়ছে। পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে পণ্যজট তৈরি হয় এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও জটিলতা দেখা দেয়। এ কারণেই বন্দরের ধারণক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার, পণ্যজট নিরসন ও রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে শেষবারের মতো সময় দেওয়া হয়েছে।
কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে নিলাম হওয়া কনটেইনার রয়েছে ৫ হাজার ১০০টি। মামলাসংক্রান্ত বাধাসহ নানা কারণে এসব কনটেইনার এখনো খালাস হয়নি।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে এত দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য পড়ে থাকা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়। পাঁচ হাজারের বেশি কনটেইনার বছরের পর বছর জায়গা দখল করে রাখলে বন্দরের কার্যক্ষমতা ও আমদানি-রপ্তানির গতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এসব পণ্যের একটি অংশ মামলাজটে আটকে থাকায় সব চালান দ্রুত নিষ্পত্তি করা কঠিন হতে পারে। এখন নজর থাকবে, সময়সীমা পার হওয়ার পর কাস্টমস কত দ্রুত ও কীভাবে পুনঃনিলাম বা ধ্বংসের মতো পদক্ষেপ নেয়।

