বাংলাদেশের বন্দর খাতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বৈশ্বিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে।
এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সরকারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ১৫ বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় এই চুক্তি সম্পন্ন হয়।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং ডিপি ওয়ার্ল্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েম উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি দেশের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল হওয়ায় এই চুক্তিকে বন্দর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী বন্দর পরিচালনা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং লজিস্টিকস খাতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এই অংশীদারত্বের মূল লক্ষ্য হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর অবকাঠামো তৈরি করা।
বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের বড় অংশ চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দরের দক্ষতা, পণ্য খালাসের গতি এবং পরিচালন সক্ষমতা আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প, তৈরি পোশাক খাত এবং শিল্প উৎপাদনের জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য বন্দরসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বন্দর ব্যবস্থাপনায় নতুন ধারা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের অংশগ্রহণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে এই চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বৃহস্পতিবার দুপুরে ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে চুক্তির প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সমর্থকদের মতে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে পারে এবং বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে বিরোধীদের উদ্বেগ হলো, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি অংশগ্রহণ নিয়ে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনার এই ১৫ বছরের চুক্তি এখন বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে চুক্তির বাস্তবায়ন, পরিচালন দক্ষতা এবং দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ কতটা নিশ্চিত করা যায় তার ওপর।

