বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নিট বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, অর্থাৎ এফডিআই এসেছে প্রায় ১.৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৯.৩৬ শতাংশ বেশি। শুনতে ভালো খবর। কিন্তু ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের তথ্যটা পাশে রাখলে একটা প্রশ্ন জাগে। ওই তিন মাসে মোট এফডিআই এসেছিল ১.১০ বিলিয়ন ডলার, আর বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ফেরত নিয়েছেন ৬৫.৭ কোটি ডলার, মানে প্রায় ৬০ শতাংশ। তখন মনে যে প্রশ্ন জাগে তা হলো: ওরা তো লাভ নিয়ে চলে যায়, তাহলে ওদের এত খাতির কেন? আজ এই প্রশ্নটা ধরে আগানোর চেস্টা করবো। আমার মনে হয় আসল গোলমালটা উত্তরে নয়, প্রশ্নটা কীভাবে করা হচ্ছে তাতে।
যে ডলারের হিসাব দেখছেন, তার ভেতরে কী আছে?
আগে পরিষ্কার করে নিই এফডিআই আসলে কী। ওইসিডির মানদণ্ডে কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী যখন একটি প্রতিষ্ঠানে অন্তত ১০ শতাংশ ভোটাধিকার পান, তখন সেটা প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ। এর হিসাবে তিনটি জিনিস ঢোকে: নতুন শেয়ারমূলধন বা ইকুইটি, মূল কোম্পানির দেওয়া ঋণ, আর রিইনভেস্টেড আর্নিংস, অর্থাৎ বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে যে মুনাফা করেছে কিন্তু বাইরে পাঠায়নি। চমকটা এই শেষ অংশে। ওইসিডির নিয়মে এটি একটি কাল্পনিক লেনদেন। ধরে নেওয়া হয় মুনাফাটা মালিককে দেওয়া হলো, তারপর মালিক সেটা আবার কোম্পানিতেই ঢেলে দিলেন। সীমান্ত পেরিয়ে নতুন কোনো ডলার আসে না, অথচ হিসাবে সেটা এফডিআই। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ধরে বিডা জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১,৭৭০.৪২ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে নতুন ইকুইটি ছিল ৫৫৪.৬৪ মিলিয়ন, মানে প্রায় ৩১ শতাংশ। মূল কোম্পানির ঋণ ছিল ৭৮১.৬৮ মিলিয়ন, প্রায় ৪৪ শতাংশ। রিইনভেস্টেড আর্নিংস ছিল ৪৩৪.১০ মিলিয়ন, প্রায় সাড়ে ২৪ শতাংশ। আগের বছর এই রিইনভেস্টেড আর্নিংস ছিল মাত্র ১০৩.৭৯ মিলিয়ন, অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে ৩১৮.২৫ শতাংশ। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ছবিটা আরও স্পষ্ট। ৪৪৭.৩ মিলিয়ন ডলারের নিট এফডিআইয়ের মধ্যে নতুন ইকুইটি মাত্র ৭৮.২ মিলিয়ন, আর রিইনভেস্টেড আর্নিংস ৩৪২.৯ মিলিয়ন, যা প্রায় ৭৭ শতাংশ। বাজারসংশ্লিষ্টরা প্রথম আলোকে বলেছেন, দেশে সুদের হার বেশি বলে বিদেশি কোম্পানিগুলো স্থানীয় ঋণের বদলে মূল কোম্পানি থেকে ঋণ এনেছে, আর সেটাও এফডিআই হিসেবে গোনা হয়েছে।
আরেকটা ভুল বোঝাবুঝি আছে ওই ৬৫.৭ কোটি ডলার নিয়ে। নিট এফডিআই হিসাব হয় মোট আসা অর্থ থেকে মূলধন ফেরত, ঋণ শোধ ও বিনিয়োগ গুটিয়ে নেওয়ার অঙ্ক বাদ দিয়ে। তাই ফেরত যাওয়া পুরো অঙ্কটাকে লভ্যাংশ ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমি যে প্রকাশিত তথ্য পেয়েছি, তাতে লভ্যাংশ আলাদা করে দেখানো নেই। শিরোনামের ৬০ শতাংশ তাই আসলে মুনাফার অঙ্ক নয়, সব ধরনের ফেরতের যোগফল।
লাভ নিয়ে যাওয়াটা কি সত্যিই ক্ষতি?
অর্থনীতির একদম গোড়ার নিয়ম হলো, মুনাফা পুঁজি আর ঝুঁকির দাম। কেউ বিদেশে এসে কারখানা বানিয়ে ঝুঁকি নিলে লাভের অংশ তিনি চাইবেনই। বাংলাদেশের নিয়মেও এটা বৈধ। বিডার তথ্য অনুযায়ী লভ্যাংশ অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশি শেয়ারহোল্ডারের কাছে পাঠানো যায়। ব্যাংক ও বীমা ছাড়া অন্য ব্রাঞ্চ অফিসের মুনাফা পাঠাতে বিডা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি লাগে। এবার হিসাবের দিকটা দেখুন। জিডিপি মাপে দেশের সীমানার ভেতরে কী উৎপাদন হলো, মালিক যে-ই হোক। জিএনআই মাপে দেশের মানুষের আয়, তাই বিদেশে চলে যাওয়া আয় সেখানে বাদ পড়ে। অর্থাৎ মুনাফা বাইরে গেলে জিএনআইয়ে তার ছাপ পড়ে, এটা সত্যি। কিন্তু মজুরি, কর আর স্থানীয় সরবরাহকারীকে দেওয়া টাকা দেশেই থাকে। শুধু বোঝার জন্য একটা কাল্পনিক উদাহরণ দিই, এটা বাস্তব তথ্য নয়। ধরুন এক বিদেশি কারখানা বছরে ১০০ টাকার মূল্য সংযোজন করল, যা মোটাদাগে ভাগ হয় মজুরি, কর আর মুনাফায়। এর ২৫ টাকা মুনাফা হিসেবে বিদেশে গেলেও ৭৫ টাকা দেশের শ্রমিক আর সরকারের হাতে থাকল। কারখানাটা না এলে ওই ৭৫ টাকার আয়ও তৈরি হতো না। অবশ্য একটা শর্ত আছে। একই কাজ যদি দেশীয় কেউ করতে পারতেন, তাহলে হিসাবটা অন্যরকম হতো, কারণ তখন মুনাফাও দেশে থাকত। তাই আসল প্রশ্ন “কত লাভ নিল” নয়, “বিকল্প কী ছিল, আর লাভের বিপরীতে কী রেখে গেল”। বাংলাদেশ ব্যাংকও মনে করে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ দুটোই সমান জরুরি, আর বিদেশি বিনিয়োগ সঞ্চয়ের ঘাটতি কমাতে সাহায্য করে। তবে আকারের দিকটাও মাথায় রাখা ভালো। ইউএনসিটিএডির বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০২৬ অনুযায়ী, দেশের মোট স্থায়ী মূলধন গঠনের মাত্র ১.৪ শতাংশ আসছে এফডিআই থেকে। অর্থাৎ এফডিআই এখানে একা কোনো জাদুকাঠি নয়।
কোরিয়ার সেই ১৩০ জনের গল্প
এবার একটা গল্প বলি, যা বইয়ের তত্ত্বের চেয়ে বেশি কাজের। ১৯৭০ এর দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশে পোশাক রপ্তানির কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না। নুরুল কাদেরের দেশ গার্মেন্টস তখন দক্ষিণ কোরিয়ার ডেইউ কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের চুক্তি করে। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে দক্ষ জনবল না থাকায় প্রায় ১৩০ জনের একটি দলকে প্রশিক্ষণের জন্য কোরিয়ায় পাঠানো হয়। কয়েক বছর পর দুই পক্ষ নিজেদের সহযোগিতা শেষ করে। কিন্তু দেশ গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রশিক্ষিতদের অনেকেই পরে নিজেরা কারখানা দিয়েছেন, আর তাঁদের হাত ধরে বা তাঁদের কর্মী নিয়ে অসংখ্য কারখানা গড়ে উঠেছে। ডেইউ ওই উদ্যোগ থেকে কত লাভ করেছিল, সেই হিসাব এখানে প্রায় অবান্তর। যে জিনিসটা দেশে রয়ে গেল, দক্ষতা আর উদ্যোক্তা তৈরির সেই ধাক্কা, সেটা কোনো ব্যালান্স শিটে ধরা পড়ে না। অবশ্য একটা গল্প দিয়ে সাধারণ সূত্র প্রমাণ হয় না, আর এখানে ১৩০ নাকি ১৩৬ জন, সে নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে সামান্য তফাত আছে। তাই গবেষণায় যাই।
সব বিদেশি বিনিয়োগ কি একই ফল দেয়?
উত্তর হলো না, আর গবেষণা ঠিক এই জায়গাতেই সতর্ক করে। বোরেনস্টাইন, দে গ্রেগরিও ও লি উন্নয়নশীল ৬৯টি দেশের দুই দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, এফডিআই প্রযুক্তি হস্তান্তরের গুরুত্বপূর্ণ বাহন এবং দেশীয় বিনিয়োগের চেয়ে প্রবৃদ্ধিতে বেশি অবদান রাখে। কিন্তু সেটা তখনই, যখন দেশে মানবসম্পদের একটা ন্যূনতম স্তর আছে। একই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এফডিআই মোট বিনিয়োগ বাড়ায় এক ডলারের বেশি হারে, অর্থাৎ দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটা পরিপূরক সম্পর্ক তৈরি হয়। বেআতা জাভোরচিক লিথুয়ানিয়ার প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্য ঘেঁটে দেখেছেন, বিদেশি কারখানার স্থানীয় সরবরাহকারীদের উৎপাদনশীলতা বাড়ার প্রমাণ মেলে, আর সেটি যৌথ মালিকানার প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত, শতভাগ বিদেশি মালিকানার সঙ্গে নয়। তিনি নিজেই সতর্ক করেছেন, এই ফলকে এফডিআইতে ভর্তুকি দেওয়ার পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। আবার এইটকেন ও হ্যারিসন ভেনেজুয়েলার তথ্যে দেখেছেন, বিদেশি ইকুইটি আছে এমন কারখানার উৎপাদনশীলতা বাড়লেও দেশীয় মালিকানার কারখানার ওপর প্রভাব ছিল নেতিবাচক। সব মিলিয়ে নিট প্রভাব ছিল খুব সামান্য, আর লাভটা আটকে ছিল যৌথ উদ্যোগগুলোর হাতেই। এর মানে দাঁড়ায়, বিদেশি বিনিয়োগ নিজে থেকে মূল্য তৈরি করে না। মূল্য তৈরি হয় দেশের দক্ষতা, সরবরাহকারী আর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেই বিনিয়োগ কতটা জুড়ছে তার ওপর। আমার কাছে এটাই পুরো বিতর্কের চাবিকাঠি।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ইউএনসিটিএডির ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রতিবেদন ঠিক এই জায়গাতেই আঙুল তুলেছে। তাদের হিসাবে ২০২১ সাল থেকে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের মোট স্টক প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারেই আটকে আছে, মূলত বস্ত্র, অর্থ ও বিদ্যুৎ খাতে। ধীরে ধীরে ওষুধ, টেলিযোগাযোগ আর আইসিটির দিকে বৈচিত্র্য আসছে। প্রতিবেদনের মূল কথা, প্রশ্নটা শুধু কত বিনিয়োগ আসছে তা নয়, কোথায় যাচ্ছে আর পেছনে কী রেখে যাচ্ছে: কাজ, দক্ষতা, প্রযুক্তি, সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগসূত্র আর রপ্তানি সক্ষমতা। দক্ষতা উন্নয়ন, অবকাঠামো আর স্থানীয় সরবরাহকারীর সঙ্গে সংযোগের জায়গায় বাস্তবায়নের ঘাটতি আছে বলেও তারা উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি নিট এফডিআই গেছে বিদ্যুৎ খাতে, ৪৪৮.১৮ মিলিয়ন ডলার। দেশভিত্তিক হিসাবে সবার ওপরে নেদারল্যান্ডস, ৫৪৪.৬১ মিলিয়ন, যার ৪০৫.৪৬ মিলিয়ন গেছে খাদ্যপণ্যে। এই খাতগুলো দেশের ভেতরে কতটা কর্মী, সরবরাহকারী আর দক্ষতার জাল বুনছে, সেটা আলাদা করে মাপা দরকার, কারণ ওই মাপই বলে দেবে ডলারটা মূল্যে রূপ নিল কি না। ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রূপালী হক চৌধুরীও ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বলেছেন, নতুন বিনিয়োগ টানতে লজিস্টিকস, অবকাঠামো, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ আর নীতির ধারাবাহিকতা ঠিক করতে হবে। তাঁর ভাষ্য, সস্তা শ্রম ছাড়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে।
যে ডলার আটকে থাকে, সেটাও এফডিআই হয়ে যায়
এবার একটা অদ্ভুত বিষয়, যা সাধারণত শিরোনামে আসে না। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে ডলার সংকটের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছিলেন, রিইনভেস্টমেন্ট বেড়েছে মূলত এ কারণে যে বিদেশি কোম্পানিগুলো মুনাফা ফেরত না নিয়ে দেশেই খাটিয়েছে। তখনকার ফিকি সভাপতি নাসের এজাজ বিজয়, যিনি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহীও, বলেছিলেন তাঁর ব্যাংক ২০২১ সাল থেকে প্রধান কার্যালয়ে লভ্যাংশ পাঠায়নি, কারণ গ্রাহকদের বৈদেশিক মুদ্রার দায় মেটানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের প্রতিবেদন নিয়ে প্রথম আলোর খবরেও একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, গত বছর একটি বহুজাতিক ব্যাংক মুনাফা দেশের বাইরে নেয়নি। এর অর্থ, এফডিআইয়ের অঙ্ক বাড়া সব সময় আস্থার প্রমাণ নয়। কখনো সেটা আটকে থাকা ডলারেরও ছায়া। তাই রিইনভেস্টেড আর্নিংস বাড়লে আমি খুশি হওয়ার আগে জানতে চাই, এটা বিনিয়োগকারীর ইচ্ছায় হলো, না বাধ্য হয়ে। উল্টো দিকটাও সত্যি। ঢোকার দরজা যত চওড়াই হোক, বেরোনোর পথ অনিশ্চিত হলে নতুন বিনিয়োগকারী দ্বিধা করেন। নিয়মে সুযোগ থাকাই যথেষ্ট নয়, সেই সুযোগ কাজে কতটা মসৃণ, তার ওপরই ভবিষ্যতের নতুন ইকুইটি নির্ভর করে।
তাহলে কোন অঙ্ক ধরে হিসাব কষব?
“ওরা লাভ নিয়ে যায় কেন” প্রশ্নটার উত্তর আসলে সহজ। ঝুঁকি আর পুঁজির দাম হিসেবে লাভ নেবে, আর সেটা নিয়মের ভেতরেই। বেশি জরুরি প্রশ্ন তিনটি। এক, নতুন ইকুইটি কত আসছে, কারণ ঋণ আর রিইনভেস্টেড আর্নিংস নতুন কারখানার সমার্থক নয়। দুই, লাভের বিপরীতে মজুরি, কর, স্থানীয় ক্রয় আর দক্ষতা কতটা থাকছে। তিন, বেরোনোর পথ কতটা পরিষ্কার, কারণ সেটাই আগামী দিনের বিনিয়োগ ঠিক করে। এই তিন মাপকাঠিতে বাংলাদেশের ছবি মিশ্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য উদ্ধৃত করে ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানিয়েছে, নিট এফডিআই ২০১৩ সালে জিডিপির ১.৭৪ শতাংশে উঠেছিল, আর ২০২১ সালে নেমে আসে ০.৪১ শতাংশে। ইউএনসিটিএডির বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০২৬ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উগান্ডা পেয়েছে ৩.৪ বিলিয়ন ডলার, আর ঘানা ও কঙ্গো ১.৯ বিলিয়ন করে। অর্থাৎ বাংলাদেশের মতো বড় অর্থনীতি আকারের দিক থেকে ছোট কয়েকটি আফ্রিকান দেশের পেছনে। আমার মত তাই পরিষ্কার: সমস্যা বিদেশি কোম্পানির মুনাফা নিয়ে যাওয়া নয়। সমস্যা হলো নতুন পুঁজি কম আসছে, আর যেটুকু আসছে তার কতটা দেশীয় অর্থনীতির সঙ্গে গেঁথে যাচ্ছে, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। পরের বার এফডিআই বাড়ার খবর দেখলে নিজেকে একটা প্রশ্ন করবেন: এই টাকা কি কারখানা বানাল, না শুধু খাতায় ঘুরল?
রাকিবুল ইসলাম
রিসার্চার (ফিন্যান্স, ট্রেড ও কমার্স)

