দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম টানা আট দিন বন্ধ থাকবে। আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানিয়েছেন, ভারতের পেট্রাপোল বন্দর এবং বাংলাদেশে ছুটির কারণে এই সময় বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। আগামী ২৫ অক্টোবর সকাল থেকে আবার স্বাভাবিকভাবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে।
তবে এই সময় যাত্রী চলাচল বন্ধ থাকবে না। বেনাপোল-পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে।
বেনাপোল দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত স্থলবন্দরগুলোর একটি। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য এই বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়। ফলে দীর্ঘ সময় বাণিজ্য বন্ধ থাকায় রাজস্ব আদায়, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বেনাপোল বন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আলহাজ মোহসিন মিলন জানান, প্রতিদিন প্রায় ৫০০টি পণ্যবাহী ট্রাক এই বন্দর দিয়ে সীমান্ত পার হয়। এসব কার্যক্রম থেকে সরকার প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব পায়।
তিনি বলেন, আট দিন বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকলে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় বিলম্বিত হতে পারে।
ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘ ছুটির পর বন্দর চালু হলে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহনের কারণে বন্দরে চাপ তৈরি হতে পারে। পণ্যজট, ট্রাকের দীর্ঘ সারি এবং খালাস প্রক্রিয়ায় বিলম্ব দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে শিল্পকারখানার কাঁচামাল, প্রয়োজনীয় পণ্য এবং বিভিন্ন আমদানি পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় এই বিরতির প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনের জন্য ভারত থেকে কাঁচামাল, কাপড়, সুতা এবং অন্যান্য পণ্য আমদানি করে থাকে। তাই বাণিজ্য কার্যক্রমে দীর্ঘ বিরতি হলে কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদন পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানেও কয়েক দিনের জন্য বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, ভারতে ১৭ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশে সরকারি ছুটি চলবে ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। দুই দেশের ছুটির সময় মিলিয়ে মোট আট দিন পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকবে।
তবে বেনাপোল বন্দরের সব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকবে না। ১৮ ও ১৯ অক্টোবর কাস্টমসের কিছু কার্যক্রম এবং বন্দরের অভ্যন্তরীণ কাজ চালু থাকবে। আগে আমদানি করা পণ্য খালাস করা যাবে এবং পণ্য খালাস শেষে খালি ভারতীয় ট্রাকগুলোও দেশে ফিরে যেতে পারবে।
এদিকে যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, ছুটির পুরো সময় ইমিগ্রেশন সেবা চালু থাকবে।
তিনি বলেন, ছুটির সময়ে যাত্রীদের সংখ্যা বাড়তে পারে। তাই অতিরিক্ত কর্মকর্তা মোতায়েন করে সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত শুধু দুই দেশের বাণিজ্যের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। তাই পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও যাত্রী সেবা চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২৫ অক্টোবর বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পর জমে থাকা পণ্য দ্রুত পরিবহন ও খালাস নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে বন্দর ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে প্রয়োজন হবে কার্যকর প্রস্তুতি।

